'থিংক বাংলাদেশ’ স্লোগানে ডিসেম্বরে ঢাকায় ৫০ দেশের প্রবাসীদের মহাসম্মেলন

post-title

ছবি সংগৃহীত

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান ,প্যারিস (ফ্রান্স ) প্রতিনিধি: "থিংক বাংলাদেশ’ (Think Bangladesh) স্লোগান নিয়ে বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশের এক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীকে নিয়ে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’।

এ উপলক্ষে রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ক্যাফে দ্য লুনায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড।সংবাদ সম্মেলনে সামিটের সময়সূচি, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সামিটের কনভেনার মমিনুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের উপদেষ্টা ও আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ, কনভেনার মমিনুল হক এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম।
লিখিত বক্তব্যে আয়োজকরা বলেন, "এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মেধা, দক্ষতা এবং বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা।"
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে।

২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড বিজনেস সামিট’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ,২০১৮সালে আমেরিকায়, ২০১৯,২০২০ এবং ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কয়েকটি ওয়াল্ড সামিট আয়োজন করা হয়।এনআরবি ওয়ার্ল্ড একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম।

কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, "দেশের উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রবাসীদের নিজেদেরও সোচ্চার হতে হবে।"

তিনি আরো বলেন, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রবাসীদের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে না দেখে দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

সামিটের কনভেনর মমিনুল হক বলেন, "প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।" তিনি ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধা পাচারকে ‘ব্রেইন গেইন’ বা মেধার কার্যকর ব্যবহারে রূপান্তর করার তাগিদ দেন।

প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম বলেন, "সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু প্রবাসীদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন।" সরকার পরিবর্তন হলেও প্রবাসীদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে হবে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও তথ্যের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবেশাধিকার বাড়ানো প্রয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ঢাকার সামিটে ব্যবসা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রবাসী সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কার্যকর প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

পরিশেষে আয়োজকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামিটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে র সমাপ্তি ঘটে।

এসএ/সিলেট