মৌলভীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় আটক ১

post-title

ছবি সংগৃহিত

মৌলভীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আব্দুর রহমানকে একমাত্র আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন গত ৯ নভেম্বর।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চালিয়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ বিশ্ব কলোনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৌলভীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও এর কাছিম মিয়ার পুত্র।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার হওয়া আব্দুর রহমানকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।

র‌্যাব জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকালে ভিকটিমকে বাড়িতে রেখে কাজে চলে যান তার মা। ভিকটিম নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে থাকলে বিবাদী গোপনে ভিকটিমের শয়ন ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ঘুম ভেঙে গেলে বিবাদীকে দেখে চিৎকার দিতে চাইলে বিবাদী ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং ধর্ষণ করার জন ধস্তাধস্তি শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর ভিকটিম কান্নাকাটি করতে থাকলে বিবাদী ভিকটিমের মাথায় হাত রেখে শপথ করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর অনুরোধ করলে ভিকটিম ঘটনাটি গোপন রাখে। বিবাদী এভাবে মিথ্যা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখে ভিকটিমের মা এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বলে। অতঃপর ভিকটিম অন্তঃস্বত্তা হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভিকটিমের মা বিবাদীর পিতাকে বিস্তারিত জানিয়ে ভিকটিমকে বিয়ে করে সামাজিক ভাবে তাদের বাড়িতে উঠিয়ে নিতে বললে বিবাদীর পিতা ভিকটিমের গর্ভের সন্তান তার ছেলের নয় বলে গালমন্দ করে এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে ও ভবিষ্যতে তাদের বাড়িতে গেলে এর পরিণাম ভাল হবে না মর্মে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।



এসএ/সিলেট