স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে ফাতিমা শাবানের জয়, ধরে রাখল এনডিপি

post-title

ডেস্ক

শাহজাহান সেলিম বুলবুল (কানাডা) :কানাডার অন্টারিওর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের প্রাদেশিক উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী ফাতিমা শাবান। 

বেসরকারি ফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৯১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল পার্টির আহসানুল হাফিজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৭৪ ভোট। জয়ের ব্যবধান ২ হাজার ২৪০ ভোট। প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির ডা. নূর তরুণ পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৮ ভোট। 

এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২২ হাজার ২৫টি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। 

ইলেকশনস অন্টারিও এবার ভোটারদের জন্য দুই ধরনের আগাম ভোটের সুযোগ রেখেছিল।

প্রথমত, যারা নির্বাচনের দিনের অপেক্ষায় থাকতে চাননি, তারা ৬ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনী অফিসে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত অগ্রিম ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় ২৬, ২৭ ও ২৮ আগস্ট। এই তিন দিন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের ৫টি অগ্রিম কেন্দ্রের যেকোনোটিতে ভোট দেওয়া গেছে।

ডাকে ভোট পাঠানোর শেষ সময় ছিল ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা। মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর।

২০১৮ সাল থেকে আসনটি এনডিপির দখলে। এবারের জয়ে সেই ধারা বজায় থাকল। ফল ঘোষণার পর ফাতিমা বলেন, তিনি এই এলাকাতেই বড় হয়েছেন। তার সন্তানরাও এখানে বড় হচ্ছে। এলাকার মানুষের অধিকার নিয়ে কুইন্স পার্কে লড়বেন।

এনডিপি নেতা মেরিট স্টাইলস বলেন, অনেকেই এই আসন দখলের চেষ্টা করেছে। ভোটাররা প্রমাণ করেছেন, এই কমিউনিটি কেনা যায় না।

ফাতিমা শাবান দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। তার প্রতিশ্রুতি ছিল স্কারবোরো হাসপাতালে বেড বাড়ানো এবং বিদেশি ডাক্তার-নার্সদের কাজের সুযোগ সহজ করা।

এবারের ভোটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থী মিলে পেয়েছেন ৫৩ শতাংশের বেশি ভোট। আহসানুল হাফিজ ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডা. নূর তরুণ ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। দুজনের মোট ভোট বিজয়ীর চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। 

এ নিয়ে কমিউনিটিতে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, একজন প্রার্থী থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তবে দলীয় ভোটের হিসাব সবসময় যোগ-বিয়োগে মেলে না।

আহসানুল হাফিজ এবার লিবারেলকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে তুলেছেন। তার প্রচারণায় ফেডারেল লিবারেল নেতারা থাকলেও স্থানীয় এমপি ডলি বেগমকে শেষ সময়ে দেখা যায়নি। ডলি বেগম কয়েক মাস আগেও এনডিপির ডেপুটি লিডার ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনিই এই আসনটি এনডিপিকে এনে দিয়েছিলেন।

ডা. নূর তরুণ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি সরকারের স্বাস্থ্যসেবা ও সাবওয়ে সম্প্রসারণের পক্ষে প্রচারণা চালান। কিন্তু ফোর্ড সরকারের প্রাইভেট জেট, হোটেল খরচ এবং ওসাপ নিয়ে বিতর্ক তার ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত সাধারণ নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোট কম পড়েছে। ২০২৫ সালে ভোট পড়েছিল ৪২ শতাংশের বেশি। এবার ২৬ শতাংশ। কম ভোটের নির্বাচনে সংগঠন যার শক্ত, জয় তারই হয়। এনডিপি সেটাই প্রমাণ করেছ

জুয়ে/সিলেট