২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল...
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি বলেছেন, সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্নিচার ও...
জেলা ও মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
ছবি সংগৃহিত
দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা, বিশ্বমঞ্চে স্বাবলম্বী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন এবং সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার কঠোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। একই সাথে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান খাটো করে দেখার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রবাসীদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন ও যোগাযোগের গুণগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সাথে যৌথ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে আম্বরখানা থেকে এয়ারপোর্ট রোড, হুমায়ূন রশীদ চত্বর এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন রাস্তাগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগের সরকারের কাজের ধীরগতি ও মধ্যবর্তী নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের কাজকে দ্রুত ত্বরান্বিত করতে হবে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই কাজকে একটি সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।” এছাড়া বালাগঞ্জ সড়ক সংস্কার, ‘গ্রীন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আখাউড়া-সিলেট রুটে নতুন রেল সংযোগের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
দেশের সংকটকাল ও অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের সক্রিয় অবদান ছিল।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বদরবারে প্রবাসীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। অথচ একটি ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী বা দালাল গোষ্ঠী প্রবাসীদের এই ত্যাগকে খাটো করে দেখার অপচেষ্টা করে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানান, “বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বদ্ধপরিকর। অতীতের কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পররাষ্ট্রনীতির ওপর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।”
জাতীয় রাজনীতি ও দলীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের অর্পিত দায়িত্ব সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সাথে পালন করছি। জাতীয় রাজনীতিতে সিলেট অঞ্চলের মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়ন প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের মূল কাজ জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখা। আমরা জনগণের নির্বাচিত ও প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে আগামী স্থানীয় সরকারের যে কোনো নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তৃণমূলের গতিশীল নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।”
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, এমপি ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের শামীম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসএ/সিলেট