শ্রীমঙ্গলে ছেলের হাতে বাবা খুন,...
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত এবং বড় ভাই গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে...
ছবি সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নীরবে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় এক নতুন কৃষি বিপ্লব। ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত উন্নতজাত ‘এমডি-২’ আনারস—যা বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ডেন সুইট’ বা ‘এক্সট্রা সুইট পাইনঅ্যাপেল’ নামে পরিচিত—এখন স্থানীয় কৃষিতে নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে।
এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন উপজেলার ডলুছড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মো. আতর আলী।
আনারস, লেবু, পেঁপে, শসা, লটকন ও কফির সমন্বয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বহুমুখী ফল বাগান। কৃষিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তিনি কৃষি বিভাগের পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে শ্রীমঙ্গলের ২০ জন কৃষকের মধ্যে ফিলিপাইনের উন্নতজাত এমডি-২ আনারসের মোট ৪৫ হাজার চারা বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষক পান ২ হাজার ২৫০টি করে চারা। শ্রীমঙ্গলের মাটি ও জলবায়ু এই জাতের আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় দ্রুতই এর বিস্তার ঘটছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমা পাল জানান, শুধু শ্রীমঙ্গল নয়, দেশের আরও সাত জেলায় এ জাতের আনারস চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে স্বাদ ও গুণগত মানে শ্রীমঙ্গলের আনারস ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
কৃষক আতর আলী জানান, পাহাড়ি টিলা জমিতে এমডি-২ আনারস চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে তিনবার ফলন পেয়েছেন এবং আয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। তিনি বলেন, “এই আনারস অত্যন্ত সুস্বাদু, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং বাজারে এর দামও বেশি। তাই ভবিষ্যতে এর চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” পাশাপাশি তিনি নিজেই এ জাতের চারা উৎপাদন করে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, “এমডি-২ একটি উচ্চ ফলনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় জাত। এর সংরক্ষণ ক্ষমতা ও বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।” তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ চাষকে এগিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে ফিলিপাইন, কোস্টারিকা ও থাইল্যান্ডে—এমডি-২ আনারস ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশেও এর চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানির নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীমঙ্গলের টিলা ভূমিতে এমডি-২ আনারসের এই সাফল্য কেবল একজন কৃষকের গল্প নয়; এটি দেশের কৃষি খাতে সম্ভাবনাময় এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত। আতর আলীর মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশের ফল চাষ একদিন বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে—এমন আশাই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসএ/সিলেট