অভিযোগের ভারে অবাঞ্ছিত শিক্ষক, ফেরাতেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ—হস্তক্ষেপ প্রশাসনের

৩ বছর পর বিতর্কিত শিক্ষকের প্রত্যাবর্তন: দোয়ারাবাজারে উত্তাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এক শিক্ষকের আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে আগে থেকেই অবাঞ্ছিত ঘোষিত ওই শিক্ষক পুনরায় কর্মস্থলে ফিরতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় প্রশাসন ও পুলিশকে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে এবং বিক্ষোভ শুরু করে। মুহূর্তেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উত্তেজনায় ভরে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অতীতে একাধিকবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জুন মাসে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর প্রায় তিন বছর তিনি বিদ্যালয়ের বাইরে ছিলেন।

তবে হঠাৎ করে তার পুনরায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে। তারা শিক্ষককে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার পুনর্বহাল ঠেকাতে অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটলে উপজেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

একজন সাবেক শিক্ষার্থী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সামাজিক চাপে অনেকেই এতদিন প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। তবে ২০২৩ সালের একটি ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। সম্প্রতি একটি মহল তাকে পুনর্বহালের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি একটি ষড়যন্ত্রের শিকার।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগ ওঠার পর থেকে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। তার আকস্মিক উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন। যথাযথ অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ায় আপাতত তাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তার পুনরায় যোগদান স্থগিত থাকবে।

ঘটনাটি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সবার দৃষ্টি তদন্তের ফলাফল ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

টিএ/ছাতক