শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষিণ খুরমাকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয়

দক্ষ যুবক, স্বাবলম্বী নারী, সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়তে চান সেবুল আহমদ

post-title

তাজিদুল ইসলাম

শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ঝিগলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রভাষক মোঃ সেবুল আহমদ।

সেবুল আহমদ ছাতকের দোলার বাজার ইউনিয়নের পালপুর (বাদে মর্যাদ) গ্রামের আব্দুল নুরের ছেলে।

তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই এলাকার তরুণ সমাজ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সক্ষমতা অর্জন করে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি ইউনিয়নের যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য একটি সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

সেবুল আহমদ জানান, ইউনিয়নের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত কক্ষগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিনামূল্যে আইসিটি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একজন আইসিটি শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন।

এই প্রশিক্ষণে গ্রাফিক্স ডিজাইন, এমএস ওয়ার্ড ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডাটা এন্ট্রি, সি প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা, এইচটিএমএল ও ওয়েব ডিজাইনের মৌলিক বিষয়সহ আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো হবে। তার বিশ্বাস, এসব প্রশিক্ষণ যুবসমাজকে ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাষা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্পিকিং, লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের উদ্যোগও রয়েছে তার পরিকল্পনায়। একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান, অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান, সরকারি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রেরণ এবং বিআরটিসি ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনে সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষ ড্রাইভার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত উল্লেখ করে সেবুল আহমদ বলেন, শিক্ষিত যুবতী ও নারীদের জন্য সেলাইসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংযোগে সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে নারীরা নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারেন।

শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। জীববিজ্ঞান, জীবরসায়ন, কম্পিউটার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং কৃষি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে ক্লাস ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পাস বেকার যুবকদের সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ প্রস্তুতি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সেবুল আহমদ জানান, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) সৈনিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

সেবুল আহমদের মতে, ইউনিয়নের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে দক্ষ মানবসম্পদ। তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা হবে শক্তি, কর্মসংস্থান হবে সমৃদ্ধির ভিত্তি। শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন।

টিএ/ছাতক