এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির...
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ-এর সবুজ-শান্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। গত শুক্রবার (১৭...
ছবি সংগৃহীত
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে রামাপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া গ্রামের পশ্চিম মাঝপাড়া এলাকায় বন্ধুর কুড়ালের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে শাহ আলম (২৫) নামের এক যুবক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল আনুমানিক আড়াইটার দিকে ধলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সে বাজারে উলঙ্গ অবস্থায় পালিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় এলাকার মানুষজন ঘাতক মিজানুর রহমানকে আটক করে তার বাড়িতেই রেখে থানা পুলিশে খবর দেন। আর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় জনতা সেই ঘাতক মিজানুরকে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন।
ঘটনাস্থল থেকে যুবক শাহ আলম হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল’সহ ঘাতক মিজানুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাতক মিজানুর ধলিপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথের সাব-রেজিষ্টার অফিসের দলিল লেখক বশির উদ্দিনের পুত্র। আর নিহত শাহ আলম তাদের পার্শ্ববর্তী খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের প্রতাবপুর গ্রামের ছিফত উল্লাহ’র পুত্র। সে একই গ্রামের হানিফ শাহ মাজারের খাদিম বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে নিহত শাহ আলমের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলে (শাহ আলম) মিজানুরের কাছে টাকা পায়। আর বুধবার সেই টাকা চাইতে গেলে সে (মিজানুর) আমার ছেলেকে হত্যা করে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
নিহতের ভাই জিল্লুর আলম সাইফুল বলেন, মিজান কল করে আমার ভাইকে তার বাড়ি নিয়ে যায়| আমার ভাইর লগে টাকা আসিল, হয়তো আমার ভাই টাকা না-দেওয়ার কারণে আমার ভাইরে মারছে।
ঘাতকের পিতা বশির উদ্দিন বলেন, তারা দুজনেই মদ-গাজা ও নেশা করে, হতে পারে তাদের মধ্যে এসব নিয়ে ঘটনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক মিজানুরের সাথে কুড়ালের আঘাতে নিহত হওয়া শাহ আলমের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্কও ছিল। আর ঘটনার সময় ধারের (পাওনা) টাকা চাইতে শাহ আলম ঘাতক মিজানুরের বাড়িতে আসে। এসময় টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের (মিজানুর-আলম) মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে শাহ আলমকে বাড়ির সামনের রাস্তায় নিয়ে কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় মিজানুর।
স্থানীয় জনতা শাহ আলমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে (আলম) মৃত ঘোঘণা করেন।
হত্যার ঘটনা ও ঘাতককে আটকের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। আর এঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগরের সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএ/সিলেট