এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির...
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ-এর সবুজ-শান্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। গত শুক্রবার (১৭...
ছবি সংগৃহীত
অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট এলাকার চৌরঙ্গী খেয়াঘাটে নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, অবহেলা ও যোগাযোগ সংকট থেকে মুক্তি পেতে ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর।
যোগাযোগ সংকটের ভোগান্তিতে স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌরঙ্গী খেয়াঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে তাদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য এখনো খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বর্ষা মৌসুমে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজনে—বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী কিংবা ব্যবসায়ীদের জন্য এই যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে পাশাপাশি আম্বরখানা থেকে রাতারগুল হয়ে বিছনাকান্দি, জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পৌঁছাতে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বর্তমানে যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নদীর দূ'তীরবর্তী পাড়ের এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত জনপদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই অঞ্চল অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে যাতায়াত করতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নন্দিরগাঁও, তোয়াকুল, লেঙ্গুড়া ও ডৌবাড়ি এই চারটি ইউনিয়নের নদীপাড়ের হাজারো মানুষের একটাই দাবি চৌরঙ্গী খেয়াঘাটে নদীর উপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, এই সেতু শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সচেতন মহলের মতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা, সেতুটি নির্মিত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান আরো উন্নত হবে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে তাদের কষ্ট লাঘব হবে এবং একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে গোয়াইনঘাট নতুনভাবে বিকশিত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।
এসএ/সিলেট