কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয়...
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ মো. হাসান মিয়া (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন...
অভিযুক্ত আব্দুল মন্নান
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হেলাপুর, হিংগাজিয়া, গাজীপুর, পলকোনাসহ স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের শতাধিক মানুষ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আব্দুল মন্নান লাল নামে এক ব্যক্তির অত্যাচার, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলার ভয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। অভিযুক্ত আব্দুল মন্নান স্থানীয় হেলাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিজ মিয়ার ছেলে।
বিগত ২০০৬ সালে মাঠ পর্যায়ে ভূমি জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে তার আবির্ভাব ঘটে। কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ভূমি দখল ও অর্থ আত্মসাৎ করাই হলো তার প্রধান পেশা। এমনকি স্থানীয় পূর্ব হেলাপুর জামে মসজিদের ৫ শতক ভূমি জোরপূর্বক দখল ও মসজিদের নিলামকৃত বাঁশ কাটা নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকাবাসীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি এই ঘটনার জেরে তিনি এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে উল্টো আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে হেলাপুর গ্রামের পারভেজ মিয়ার বসত ঘর নির্মাণের চলমান পাকার কাজে বাধা প্রদান করে আব্দুল মান্নান লাল গং। সেখানে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং ঘর নির্মাণ করতে হলে নগদ ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এদিকে, আব্দুল মন্নান লালের অত্যাচার ও হয়রানি থেকে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে এস এম নজরুল ইসলাম, আজমল হোসেন, ফজলুর রহমান, কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, পারভেজ উজ্জামান, ফারুক আহমদ, মাসুক মিয়া, মোহাম্মদ আলী, সহিদ মিয়া, সাদেক খান ও গোলাম মোস্তফা চৌধুরীসহ প্রায় ৩০ জন ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ গত ২০ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম বরাবর আরেকটি পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য বিষয়টি আমলে নিয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী পারভেজ মিয়া বাদী হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
এদিকে আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে অনেক মানুষের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে। তন্মধ্যে হিংগাজিয়া গ্রামের সোনা মিয়ার ২০ হাজার টাকা, গ্রামের আবুল মিয়ার প্রবাসী বোনের জামাইয়ের ৩০ হাজার টাকা, কটারকোনার সোহাগ মিয়ার ইট কেনার ২ লক্ষ টাকা, হিঙ্গাজিয়া গাজিপুরের সিতাব মিয়ার ২ লক্ষ টাকা, হেলাপুর গ্রামের আজমল মিয়ার ৮২ হাজার টাকা, পারভেজ মিয়ার ৪৫ হাজার টাকা, প্রবাসী আবু জাফরের ৩ লক্ষ টাকা ।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আব্দুল মন্নান লালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হলে নিজেকে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করে তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১ মাসে আদালতে দুটি মামলা ও থানায় তিনটি অভিযোগ দেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার আদালতে (মামলা নং-২২৮/২৬ কুলাউড়া) দায়ের করেন। মসজিদের জায়গায় বাঁশ কাটা নিয়ে কুলাউড়া থানায় আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। থানার এসআই আফসার ভুঁইয়া ও তোফায়েল আহমদে তদন্ত করছেন।
সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর এলাকার প্রতিবাদী যুবক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী তাজকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে (সি.আর মামলা নং- ৬৬৪/২৬ কুলাউড়া) দায়ের করেন। ভুক্তভোগী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আব্দুল মন্নান নিজে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে আদালতকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই মামলাটি করেছেন।
এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, ফজলুর রহমান, লেবু মিয়া, কুতুব উদ্দিন চৌধুরীসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, গত ২০ বছর ধরে আব্দুল মন্নান লালের নির্যাতন ও হুমকির ভয়ে এলাকার মানুষ তটস্থ ছিলেন। মিথ্যা মামলা ও জায়গা-জমি নিয়ে হয়রানির ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ একটি অভিযোগও দিতে পারেনি। তার প্রমাণ গত ১ মাসে সে ৫টি মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করেছে এলাকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। এলাকার প্রায় ২৩ জন নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে আসামি করে চরম হয়রানি করা হচ্ছে। আব্দুল মন্নানের এই অত্যাচারী কর্মকান্ড থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মন্নান লাল বলেন, মানুষের টাকা পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। মসজিদের জমির বিষয়ে আমার মামলা আছে। সম্প্রতি এলাকার লোকজন আমার বাড়িতে এসে হামলা করেছে তাই আমি মামলা করেছি। বিষয়টি সমাধান করতে চাইলে আমি রাজি আছি।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, এলাকার বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা ও অভিযোগ চলমান আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্তপূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএ/সিলেট