শ্রীমঙ্গলে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক...
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে যায়...
ছবি সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এছাড়া সড়ক ও রেলপথে গাছ ভেঙে পড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
সোমবার রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৫৫ কিলোমিটার) বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সমিতির ডিজিএম কমলেশ বর্মন জানান, ঝড়ে ৩৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, ৫১টি খুঁটি হেলে পড়েছে, ৪১৫ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৩৫টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক গ্রাহকের মিটার নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইনম্যান ও কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
ঝড়ের কারণে ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একইসঙ্গে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় কয়েকটি ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আছাদুজ্জামান জানান, সোমবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শহরতলীর সুরমা ভ্যালি এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে গেলে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় গাছ অপসারণের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এছাড়া রাত ৯টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের ওপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘণ্টার চেষ্টায় গাছ সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে লাউয়াছড়া বনে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০টি গাছ অপসারণ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এসএ/সিলেট