নগরীতে ট্রিপল মার্ডার : সেই বাবুলকে আদালতে সোপর্দ

post-title

ছবি সংগৃহীত

মহানগরীর রায়নগর এলাকায় মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।

তিনি বলেন,  মহানগরীর রায়নগরের মিতালি ১১১নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। শুক্রবার নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর মামলা দায়েরের কথা রয়েছে।

তিনি জানান, এর আগের দিন বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান দিয়ে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে বাবুল মিয়া (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি  মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ) ছেলে।

গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা স্বীকার করেন বাবুল। তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকেই এই ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা ছোরাটিতে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছেও বলে জানায় পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাদের সন্তানরা দেশে আসার প্রস্তুতি নেন। এই দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন আবার আরও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সর্বশেষ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছান। স্বজনদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টায় অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টায় সিলেটে পৌঁছান তারা।

পরবর্তীতে সিলেট বিমানবন্দর থেকে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পৌছান। ময়নাতদন্ত শেষে সেখান থেকে মো. আব্দুস সাত্তার ও সুরাইরা বেগমের লাশ নিয়ে রায়নগরের নিজস্ব বাসভবনে যান। আগামীকাল মো. আব্দুস সাত্তার ও সুরাইরা বেগমের লাশ দাফন করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামীকাল শুক্রবার দেশে আসবেন।

অন্যদিকে, মহানগরীর রায়নগরের মিতালি ১১১নম্বর বাসায় প্রবীণ দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ওই বাসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিতালির ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলার’ সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১নম্বর বাসায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান- বিয়ানীবাজার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

বাবুল মিয়া গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বুধবার বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে চান। কিন্তু তাহমিনা সেই সম্পর্কে অমত প্রকাশ করলে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এ সময় সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

প্রসঙ্গত, মো. আব্দুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার এলাকার আখাখাজনায়। রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।

এছাড়াও মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি বাসা রয়েছে। তার মধ্যে ১১১ নম্বরের ৩য় তলাবিশিষ্ট নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন। উপরের তলা ও নিচতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতেন এবং তিনি দ্বিতীয় তলায় থাকেন। মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারর সাথে বাসায় বসবাস করতেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। দুই বিল্ডিংয়ের বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকতেন। আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। সাত্তার মিয়া বয়স্ক লোক হওয়ায় তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও বলে জানা যায়।

এসএ/সিলেট