সিলেটসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি...
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটসহ দেশের ১৫ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।রোববার রাত ১টা...
# চুরি করে বিদ্যুৎ সংযোগ # ১০ লাখ টাকার চেক ডিজনার মামলা
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ রেজার বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি টাকার দোকান ঘর দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক বছর আগে ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তিনি দোকানের দখল ছাড়ছেন না। এছাড়া দলের পদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ নানা অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে। আহমদ রেজা বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এ অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দোকানের মালিক পক্ষ।
একাধিক সূত্র জানায়, নগরীর বানিজ্যিক এলাকা মিরাবাজারস্থ আলহাজ্ব মো. সাইফুল হক বদরুল মার্কেটের বড় একটি দোকান কোঠার দখল নিয়ে আলোচনায় আসেন বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও বর্তমানে নগরীর উর্মী ৪১/বি শিবগঞ্জের বাসিন্দা আহমদ রেজা। তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার পশ্চিম ঘুঙ্গাঁদিয়া গ্রামে। তিনি নগরীর নাইওরপুলের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. সাইফুল হক বদরুল এর কাছ থেকে ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে ৫ বছরের জন্য আলহাজ্ব মো. সাইফুল হক বদরুল মার্কেটের একটি দোকান কোঠা ফার্নিচার ব্যবসার জন্য ভাড়া নেন। দোকান কোঠা ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি রাজনৈতিক পরিচয় লুকিয়ে রাখেন। চুক্তি অনুযায়ী ৫ বছরের ভাড়ার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারী। কিন্তু তিনি এখনও দখল ছাড়তে নারাজ। এক বছরের অধিক‚ সময় ধরে পেশী শক্তির মাধ্যমে দোকান কোঠা দখলে রেখেছেন এমন অভিযোগ মালিক পক্ষের। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সিলেটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে বার বার ধরণা দিয়েও ব্যবসায়ী মো. সাইফুল হক বদরুল কোনো সুরাহা পাননি। উল্টো হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। এরপর বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন ওই ব্যবসায়ী। মার্কেট উদ্ধারে সিলেটের সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে একটি স্বত্ত¡ মামলাও করেছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. সাইফুল হক বদরুল। যার নং-৩৫৫/২০২৫ ইং। এতে আরও ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতা রেজা।
ভুুক্তভোগি ব্যবসায়ী মো. সাইফুল হক বদরুল জানান, বিএনপি নেতা আহমদ রেজা সিলেট জেলা বারের আইনজীবি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতির দাপট দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়া স্বত্তে¡ও তিনি দোকান ছাড়তে নারাজ। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমতি ছাড়াই দোকানের দরজা, গ্রীল, শাটার ইত্যাদিতে সংস্কার কাজ করিয়ে জোরপূর্বক নিজের দখল প্রতিষ্ঠার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের হুমকির প্রেক্ষিতে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সাইফুল হক বদরুল গত বছরের ২৯ মার্চ আহমদ রেজার বিরুদ্ধে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যার নং-২৫৫০, তাং-২৯/০৩/২০২৫ইং।
এছাড়া মার্কেট দখলে রাখতে মিথ্যাচার ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন আহমদ রেজা এমন অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী মো. সাইফুল হক বদরুল বলেন, দোকান ভাড়ার বিষয়টি সু-স্পষ্টভাবে তিনশত টাকার নন জুডিশিয়ার স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে এবং স্বাক্ষীদের সম্মুখে চুক্তিনামা সম্পাদিত হয়েছে। যা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। অথচ, রেজা এখন নানা টালবাহানা করছেন। এসব বিষয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করে সুফল পাননি। আহমদ রেজা সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য বিধায় আইনজীবী সমিতিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান।
ব্যবসায়ী মো. সাইফুল হক বদরুল আরও আরো জানান, কিছুদিন আগে আহমদ রেজা লন্ডনে বেড়াতে যান। সেখানে তার এলাকার প্রবাসীদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, বিয়ানীবাজারকে মডেল এলাকা বানাতে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চান। সরকারের দেওয়া বরাদ্ধ সততার সাথে কাজে লাগিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি নিজে একজন দখলবাজ ও দুর্নীতি পরায়ন লোক। লোকজনকে হয়রানী ও আইন পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন। এ ধরনের প্রতারক ব্যক্তির কাছে এ ধরনের মহৎ কাজ কোনোভাবেই আশা করা যায়না। ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চেক ডিজনার মামলা দায়ের হয় আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জে। মামলাটি দায়ের করেন জগন্নাথপুর কেশবপুর (শ্রীরামপুরের) মো. আলী রাজা। এছাড়া, ২০২১ সালে মীরাবাজার আগপাড়া মৌসুমি ৮২ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকাকালে চুরি করে বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিদ্যুৎ সি আর মামলা নং-১৫৩৪/২১। ওই মামলায় বিদ্যুৎ বিভাগের দাবিকৃত ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৬ টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকে পরিশোধ করে আহমদ রেজা বিদ্যুৎ আদালত থেকে খালাস পান।
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি সভাপতি আহমদ রেজার সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর হোয়াটসআপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়ে একটি ক্ষুধে বার্তা পাঠানো হয়। এটিরও উত্তর না আসায় আহমদ রেজার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সিলেট বাণী ডেস্ক