তরুণ-তরুণীর ছবি তুলে অনলাইনে অপপ্রচার, রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার

post-title

ছবি সংগৃহীত

নগরীর জিন্দাবাজারে রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া এক তরুণ ও তাঁর বান্ধবীর গোপনে ছবি তুলে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁদের হেনস্তা ও হয়রানি করার অভিযোগে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লানাউট পূর্বদীঘির পাড় এলাকার আব্দুস সাকুরের ছেলে আহবাবুজ্জামান আনোয়ার  ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মো. আব্দুল আহাদের ছেলে মো. সামছুল আমীন । বর্তমানে তারা নগরীর কাজীটুলা ও সিতারা ম্যানশনে বসবাস করেন।

সোমবার সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী উমাশঙ্কর গুপ্ত চৌধুরী। এর আগে রোববার মধ্যরাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে উমাশঙ্কর গুপ্ত চৌধুরী তাঁর বান্ধবী ফারিয়া সুলতানা আনিসাকে নিয়ে জিন্দাবাজারের মেহমান রেস্টুরেন্টে খেতে যান। এ সময় গোপনে তাঁদের ছবি তোলা হয়। পরে সেই ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অপপ্রচার ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এজাহারে উমাশঙ্কর গুপ্ত চৌধুরী উল্লেখ করেন, ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ থেকে তাঁর ও তাঁর বান্ধবীর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে অব্যাহতভাবে অপপ্রচার, হয়রানি ও ধর্মীয় উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

পুলিশ জানায়, মেহমান রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে ওই দুই কর্মীর গোপনে ছবি তোলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। পরে রোববার রাতে রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে আহবাবুজ্জামান আনোয়ার ও মো. সামছুল আমীনকে আটক করা হয়।

এদিকে, ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এসএ/সিলেট