বিভিন্ন মাদরাসা পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক

সিলেট ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নগরী

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নগরী। এ অঞ্চলের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমাজে শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে খাসদবির জামেয়া মদিনাতুল উলূম দারুস সালাম মাদ্রাসা পরিদর্শন ও শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিকেলে জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া শামীমাবাদ মাদ্রাসা পরিদর্শন ও তাকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, অতীতে সিলেটের অনেক বরেণ্য আলেম ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের অবদান সিলেটের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে যারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, তাঁদেরও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলো সাধারণত স্থানীয় মানুষের দান ও সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও এলাকাবাসীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগগুলো বিবেচনা করা হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে মানুষের চাহিদাও অনেক। সীমিত সম্পদের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরপরও প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সিসিকের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুন্দর, উন্নত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় খাসদবির মদিনাতুল উলূম দারুস সালাম মাদ্রাসার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হুমায়ুন আহমদ মাসুক, ডা. জিয়াউল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মিছবাহ, মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মাওলানা ওলিউর রহমান, শিক্ষক মুফতি মাওলানা আব্দুল খালিক, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দীন, মাওলানা মাসুক আহমেদ সালামী, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ, হাফিজ মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মইনুল ইসলাম, মামুন আহমদ মিন্টু, লুৎফুর রহমান, মনসুর বক্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সিসিক প্রশাসক জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া শামীমাবাদ মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় জামেয়ার মাদানী মসজিদ কমপ্লেক্সে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

জামেয়ার মুহতামিম সৈয়দ শামীম আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক পাটোয়ারী, সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচালক লিমন আহমদ, হেলাল চৌধুরী, জামেয়ার শুরা সদস্য আব্দুল জলিল ও রফিকুল ইসলাম বাদল এবং সিসিকের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক নগরীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং জামেয়ার অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এসএ/সিলেট