জকিগঞ্জে ছেলের মৃত্যুর দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বাবার মৃত্যু : পাশাপাশি কবরে শায়িত পিতা-পুত্র

post-title

ছবি সংগৃহীত

রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সদ্যবিবাহিত ছেলে মাসুক আহমেদের (৩৮) মৃত্যুর খবর এল বাড়িতে। সেই খবর শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল লতিফ। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও মারা যান।

একদিন পর সোমবার জোহরের নামাজের পর একই ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হলো তাঁদের জানাজা। পরে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বাবা-ছেলে।

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার খিলগ্রাম ঈদগাহে বাবা-ছেলের জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

জানাজার আগে পাশাপাশি দুটি কবর খোঁড়া হয়। একে একে বাবা ও ছেলের মরদেহ সেই কবরে নামানো হয়। জীবনের শেষ ঠিকানাতেও পাশাপাশি রয়ে গেলেন তাঁরা। প্রিয়জনের এমন করুণ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

জানাজা ও দাফনের সময় খিলগ্রাম ঈদগাহ ও আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় উপস্থিত লোকজনও শোকে ভেঙে পড়েন। বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক বিদায়ের দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

বিয়ের মেহেদির দাগ তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি মাসুক আহমেদের হাত থেকে। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর চোখে ছিল নানা স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের কথা হয়তো পরিবারের সদস্যদেরও বলেছিলেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর এল বাড়িতে। সেই খবর শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল লতিফ। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও মারা যান।

একই সন্ধ্যায় বাবা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুকের মৃত্যুর খবর যখন বাড়িতে পৌঁছায়, তখন পরিবারের স্বাভাবিক পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরও মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে পারেননি আব্দুল লতিফ। সদ্যবিবাহিত ছেলের মৃত্যু ছিল তাঁর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

স্বজনেরা জানান, মাসুকের বিয়ে হয়েছে সম্প্রতি। বিয়ের পর নতুন সংসার শুরু করেছিলেন তিনি। স্ত্রীকে নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অনেক পরিকল্পনা ছিল। সংসারকে ঘিরে ছিল নতুন স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেলেন না তিনি।

মাসুকের হাতে বিয়ের মেহেদির দাগও এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। অথচ সেই হাতই আর কোনো দিন নতুন সংসারের কাজে ব্যস্ত হবে না। যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও বিয়ের আনন্দে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুতে এখন বাড়িতে নেমে এসেছে নীরবতা।

আর ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাবার মৃত্যুর ঘটনা শোককে আরও ভারী করে তুলেছে। স্বজনেরা বলছেন, মাসুক ছিলেন পরিবারের প্রিয় একজন সদস্য। তাঁর এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার ওপর বাবাকেও হারাতে হয়েছে একই ঘটনায়।

স্থানীয় লোকজনও ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবার মৃত্যু পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাবাও মারা গেছেন।

ওসি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিবেচনা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

এসএ/সিলেট