মৌলভীবাজারে নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা...
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে মৌলভীবাজারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ...
ছবি সংগৃহীত
একটি রাজনৈতিক দল সারা দেশে মামলা দিয়ে বাণিজ্য করেছে এবং এখন ভোটের সময় সেই মামলা প্রত্যাহারের প্রলোভন দেখাচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থী প্রীতম দাসের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'তারা একসময় ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছিল, কিন্তু নিজেরাই সেই প্রতিশ্রুতি বিক্রি করে দিয়েছে। এখন তারা আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এসব মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই না কোনো আসন নষ্ট হোক, কোনো আসন চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীদের হাতে যাক, কিংবা যারা নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের হাতে যাক। আমাদের ভেদাভেদের কারণে যেন এমন কিছু না হয়।'
এনসিপি নেতা প্রীতম দাসের অবদানের কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, 'প্রীতম দাস এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। চা-বাগানের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে জেল খেটেছেন।'
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, 'এবারের নির্বাচন কেবল নির্বাচন নয়, এটি একটি গণভোট। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান রোধ করতে জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে রায় দেবে।'
নাম উল্লেখ না করে একটি বিশেষ দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'অতীতের মতো আবারও হামলা, মামলা ও সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর মেনে নেওয়া হবে না।'
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'যারা ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আজ তাদেরই পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।'
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা ঘণ্টায় ১০০ টাকা মজুরির দাবি করেছি। শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরির দাবিও তুলেছি। নির্বাচিত হলে এই দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব এবং প্রয়োজনে এটিকে আন্দোলনে রূপ দেব।'
সমাবেশে প্রার্থী প্রীতম দাস বলেন, 'আমরা যখন আওয়ামী সরকারের অত্যাচার-অনাচারের প্রতিবাদ করেছি, তখন আমাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। তারা চেয়েছিল আমাদের কণ্ঠ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। তবুও যখন জেল থেকে বের হয়েছি, তারপরই ঢাকায় গিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করেছি।'
এসএ/সিলেট