দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৪০
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পৃথক দুইটি সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হাজারীপুর ও জগদল গ্রামে এ ঘটনাগুলো ঘটে।জানা যায়,...
জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরের কৃষকদের ধান তোলার দৃশ্য। মঙ্গলবার বিকেলে তোলা।
সানোয়ার হাসান সুনু: জগন্নাথপুর থেকে :: উজান থেকে থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়া,মই ও পিংলার হাওর সহ বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। গত সোমবার থেকে মঙ্গলবার হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।
নলুয়ার হাওরের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া বলেন, ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।
জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান,পিংলার হাওরে ১০ (৩০ শতকে ১কেদার) কেদার জমি করেছি। এখন পর্যন্ত ২কেদার ধান কেটেছি। শ্রমিক সংকটের কারনে কাটতে পারছিনা। অন্যদিকে হাওরে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
মই হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক আছাদ মিয়া বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?’
একই গ্রামের কৃষক রূপ মিয়া, মোহন মিয়া, ছাবির মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হাওরের শতশত কৃষক পরিবারে হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। ডুবে গেছে ধান শুকানোর খলা। পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে হিমশিম পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করেছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি।
এসএ/সিলেট