সিলেটে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠিত

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটে ডাক্তার জহিরুল ইসলাম (অচিনপুরী) প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ এর সিলেট জেলার নতুন কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সিলেটস্থ প্যারালাক্স পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সন্ধায় নব-নির্বাচিত সভাপতি অধ্যক্ষ শামছুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডাঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষের নিরাপদ চলাচল ও সড়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাঃ জহিরুল ইসলাম এর উদ্যোগে এই স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে যে কাজের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান। নিরাপদ যাতায়াত, আমাদের সবার দায়িত্ব। সকলের সচেতন পথচলা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে গড়ি নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ।

এসময় তিনি বলেন, স্কিনে প্রেজেন্টেশনে সড়ক, রেল, বিমান ও জলপদ এই সকল কিছু সিলেট বিভাগের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে। সিলেট-ঢাকা সড়কের যে অবস্থা নিয়ে বলেন, রাস্তাটি পুরোপুরি যাতায়াতের একটা অনুপযোগী বলা যায়। তিনি আকাশ যাতায়াতেও সিলেটবাসীর কষ্ট তুলে ধরেন, তিনি অন্য জেলায় বিমান যাতায়াতে ভাড়া ভাড়ে না, শুধু সিলেটবাসী ভাড়তি বিমান ভাড়া দিতে হয়, রেলসহ সকল বিষয়ের অব্যাবস্থাপনা নিয়ে সিলেটবাসী সকলকে সুচ্ছার হওয়ার আহবান জানান। তিনি দেশের অন্য জেলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দেখে প্রশংসা করেন। সিলেট সুরমা নদী খননে সরকারের দৃষ্টি দেওয়ার প্রতি অনুরোধ করেন। সুরমা নদী খনন হলে শহরের জলাবদ্ধতা আর হবে না। যাতায়াতে বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে জানঝট হবে না, সময়ও কম লাগবে। তিনি যানজটের কারণ হিসাবে হাইওয়েতে রাস্তার উপর বাজারের বিষয়টি তুলে ধরেন, এসব হাঠবাজারের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন। সিলেট-ঢাকা হাইওয়ের ৬ লেনের কাজ দ্রত সম্পন্ন করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক দৃষ্টি রাখলে মানুষের কষ্ট কমানো সম্ভব বলে তিনি জানান। তিনি নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেন। তিনি সিলেট তাজপুর এলাকায় একটা ট্রমা সেন্টার স্থাপন করার দাবি জানান। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯শত বেডে সকল ধরনের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হ”্ছ।ে এই হাসপাতালে কে ধনী আর কে গরীর কোন আলাদা সিষ্টেম নাই, সকল রোগীকে সমানভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের সকল ধরনে সহযোগীতা করার আহবান জানান। সরকার যে নতুন রেফারেন্স সিষ্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার আসবে। উপজেলার রোগীরা সেখানেই চিকিৎসা সেবা পাবে।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ পিডিজি আতাউর রহমান পীর, পরিবেশবাদী লেখক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব এর সভাপতি মইন উদ্দিন আহমদ। এসময় বক্তারা বলেন, নিরাপদ যাতায়াত কোন বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলতে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা ডাঃ জহিরুল ইসলাম (অচিনপুরী) তিনি বলেন, নিরাপদ ও মানবিক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সিলেট বিভাগসহ সারাদেশে পরিষদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। এসময় যাতায়াত ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় চিহৃত করে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সাংঠনিক সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন শিপলুর সঞ্চালনায় ও যুগ্ম সম্পাদক হাকীম ফারুক আহমদ নোমান এর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ও গীতিকবি গিয়াস উদ্দিন সানি। পরে প্রজেক্টর ডিসপ্লের মাধ্যমে বর্তমানে ঢাকা সিলেট হাইওয়েতে যাতায়াত দীর্ঘ সময় লাগার প্রধান কারণ ও বড়বড় দুর্ঘটনার মূল কারণ এবং এসব নিরশনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করনিও ভুমিকা কি হওয়া উচিত, দূরপাল্লার ৮০জন ড্রাইভারের মধ্যে একটা জরিপ কার্য অনুষ্টিত হয়। এর ডায়াগ্রাম সাহায্যে একটা প্রেজেন্টেশন উপস্তাপন করেন সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুনতাহা। পরে ২০২৬-২০২৮ সালের জন্য দুই বছর মেয়াদি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটির সকল সদস্য প্রধান অতিথির হাত থেকে ফলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

নবগঠিত কমিটিতে অন্যান্যরা হলেন, প্রধান উপদেষ্টা ডাঃ জহিরুল ইসলাম (অচিনপুরী), উপদেষ্টা আতাউর রহমান পীর, আফতাব চৌধুরী, এম.এ জলিল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সভাপতি অধ্যক্ষ শামছুল ইসলাম, এম.এ ওয়াহাব (সহ-সভাপতি), সোলেমান হোসেন চুন্নু (সহ-সভাপতি), এড. শফিকুল ইসলাম (সহ-সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (সহ-সভাপতি), আতিক রাহি (সহ-সভাপতি), সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ও গীতিকবি গিয়াস উদ্দিন সানি, (যুগ্ম সম্পাদক), হাকিম নোমান হিমাংশু শেখর দাস (যুগ্ম সম্পাদক), দেলোয়ার হোসেন শিপলু (সাংগঠনিক সম্পাদক), আবু ইউসুফ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), কোহিনুর চৌধুরী (অর্থ-সম্পাদক), মামুন শাহরিয়ার শুভ (সহ-অর্থ-সম্পাদক), রাকিব আহমদ রুবেল (দপ্তর সম্পাদক), মো: লুৎফুর রহমান (সহ-দপ্তর সম্পাদক), বদরুল ইসলাম মহসিন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), শাখাওয়াত হোসেন পীর (সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), এডভোকেট কাওছার আহমেদ (আইন বিষয়ক সম্পাদক), এড. জাকির হোসেন (সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক), ড. মুনতাহা (শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক), রুনা সুলতানা (সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক), শামছুল ইসলাম মনজু (স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক), আফতাব উদ্দিন চৌধুরী (সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক), উৎফল বড়–য়া (মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক), (সহ- মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক), পাপিয়া আহমেদ লিপি ( মহিলা বিষয়ক সম্পাদক), লাভলী মালিক (সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক), লোকমান আহমদ (সড়ক বিষয়ক সম্পাদক), ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জমান (সহ-সড়ক বিষয়ক সম্পাদক), মহিবুর রহমান চৌধুরী ( রেলপথ বিষয়ক সম্পাদক), আল-আমিন (সহ-রেলপথ বিষয়ক সম্পাদক), হুমায়ুন কবির (আকাশ পথ বিষয়ক সম্পাদক), আজিুজুল ইসলাম (সহ-আকাশ পথ বিষয়ক সম্পাদক), শফিকুর রহমান (জলপথ বিষয়ক সম্পাদক), ছামির আহমদ (সহ-জলপথ বিষয়ক সম্পাদক), রাকিব মিয়া তালুকদার (পর্যটক বিষয়ক সম্পাদক), আব্দুল মনাফ (সহ-পর্যটক বিষয়ক সম্পাদক), সদস্য: বিলাস সিনহা, বায়েজিদ খান, কামরুল হাসান সুমন, সেবুল রেজা, আলা-উদ্দিন পাশা, ইকবাল হোসেন, হুমায়ুন রশিদ, মাহফুজুর রহমান মারুফ, কবীর আহমদ সোহেল। সভাপতির বক্তব্যের পূর্বে অতিথিদেরকে কেস প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতি অধ্যক্ষ শামছুল ইসলাম নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘নিরাপদ যাতায়াত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। তিনি আরো বলেন, শুধু অভিষেক অনুষ্ঠান নয়, সংগঠনের সকলের মধ্যে সৌহাদ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো। তিনি বলেন, সম্পর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সংবিধান সম্মতভাবে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করছে। আশা রাখি সবার সক্রিয় অংগ্রহণে আমাদের প্রিয় লক্ষে সংগঠকনকে এগিয়ে নিতে পারবো।

এসএ/সিলেট