শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের...
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদনা ছড়া, লাংলিয়া ছড়া ও ডিগডিগিয়া ছড়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুজনকে তিন...
ছবি সংগৃহীত
মিঠা পানির জলাভূমি নামে খ্যাত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে এবারো ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ। ইতোপূর্বেও এই হাওরে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কয়েকগুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে বলে মনে করছেন মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জেলেরা। এতে হাকালুকি হাওর পারের জেলেদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে হাকালুকি হাওরে বেশ ইলিশ ধরা পড়েছিল। মাঝখানে আর তেমন দেখা মেলেনি।
তবে এবার আবারও জেলেদের জালে অনেক ইলিশ ধরা পড়ায় তা স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সাথে সংযুক্ত থাকায় নদীতে অবস্থানরত ইলিশ অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর বেশী পরিমানে হাকালুকিতে প্রবেশ করায় ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেন। সেখানে দেশী প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সাথে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। সেগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. উমর আলী, সুফিয়ান আহমদ জমির মিয়া, আহাদ মিয়া বলেন, গত বুধবার রাতে হাওরে কয়েকজন মিলে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এক টানে সব মাছ ওঠেনি। ৪-৫ বার জাল টেনে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। হঠাৎ জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা মহাখুশি। তারা প্রত্যাশা করছেন ইলিশের মতো এবছর দেশীয় প্রজাতির মাছেরও উৎপাদন বাড়বে।
শিক্ষার্থী ফারদিন কাওসার তানিম ও ফাহমিদুর রহমান আবির বলেন, লোকেমুখে শুনি কুলাউড়ার বিভিন্ন বাজারে দেশীয় মাছের সাথে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। লোভ সামলাতে না পেরে স্বচক্ষে ইলিশ মাছ দেখতে কয়েকটি বাজার ঘুরি। শুক্রবার বিকেলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আসার পথে কুশিয়ারার ঘাট থেকেক দুই কেজি বাছা মাছ ক্রয় করি। সেই মাছের সাথে ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ পাওয়া যায়। সেটা পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ার নদীর সাথে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকিায় প্রতি বছর হাওরে ছোট ছোট ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুঁটে উঠছে। তিনি আরো বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ী ঢল যখন নামে তখন হাকালুকি হাওরের পানি মূলত কুশিয়ারা নদী দিয়ে পদ্মায় গিয়ে মিলিত হয়। ফলে ইলিশ মাছ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে আসতে থাকে। আসতে আসতে তাদের শেষ স্থান হয় হাকালুকি হাওর। ফলে আগাম বন্যা হলেই হাকালুকি হাওরে ইলিশের দেখা মেলে। আমি আশাবাদী ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকিতে ইলিশ মাছের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের হাওরটি দেশের বৃহত্তম। তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। এই হাওরে জেলেদের জালে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সঙ্গে ইলিশও উঠছে। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালে এই হাওরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই হাওর থেকে হারিয়ে গেছে নানা জাতের দেশীয় মাছ, জলপ্রাণি ও উদ্ভিদ। বিশেষ করে রাণী মাছ, আইড়, শুউল, গজার, বাঘা গুত্তম ও ইলিশ মাছ ছিল হাকালুকি হাওরের ঐতিহ্য। একসময় সুস্বাদু এ মাছগুলো সবসময় হাওরে জেলেদের জালে ধরাপড়ত। কালের পরিক্রমায় এখন যেন তা অনেকটাই বিলুপ্ত।
গেল কয়েকবছর থেকে অল্প করে হলেও হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। এবছর গেল কয়েকদিন থেকে অন্যান্য বছরের চাইতে বেশি ধরা পড়ছে। র্দীঘদিন পর ইলিশ উৎপাদনে হাকালুকি হাওর ঐতিহ্য পথে ফেরায় বেজায় খুশি সংশ্লিষ্টরা। হাকালুকি হাওরে প্রাকৃতিকভাবে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছগুলো হাওরে আসা ছাড়াও সরকারের মৎস্য বিভাগও অবমুক্ত করেছে নানা প্রজাতির পোনা মাছ। সব মিলিয়ে এবছর হাকালুকিতে ব্যাপক মাছের উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছেন তারা। আর হাকালুকিতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ভাসমান পানিতেও জেলেদের জালে ধরা পড়ায় এমন প্রত্যাশিত সম্ভাবনায় হাতছানিই দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
এসএ/সিলেট