নিহত পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে মন্ত্রীর আশ্বাসে বাদীর আস্থা

post-title

ছবি সংগৃহীত

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা নিয়ে এত দিন পুলিশের ভূমিকায় সন্দিহান ছিলেন মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আশ্বাসের পর এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন তারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের জল্লারপারের খান হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সেলিনা সুলতানা শিখা ও তাঁর বোন তারানা সুলতানা শিমু। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও অপরাধীদের বিচারের দাবিতে পাশে থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিলেটের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

সেলিনা সুলতানা বলেন, ‘আমরা এতদিন সঠিক তদন্ত এবং বিচার নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর আশ্বাসে আমরা এখন সঠিক তদন্ত ও বিচার নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছি।’
মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেন। সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে এ সাক্ষাতে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের দাবি জানান। মন্ত্রী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তারা।

মামলায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি জানিয়ে সেলিনা বলেন, ‘আমরা মামলায় নির্দিষ্ট কারও নাম আনিনি। কিন্তু ঘটনার পরম্পরা ও তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধী বের করার জন্য প্রশাসনকে দাবি জানিয়েছি। এটা প্রশাসনের কাজও।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিহতদের মেয়েরা জানান, তাঁদের বাবার জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধ একজন আইনজীবীর সঙ্গে ছিল। বিষয়টি তাঁরা পুলিশের নজরে এনেছেন। তবে ওই আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন কোনো অভিযোগ তাঁরা করেননি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি জড়িত কি না, তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের বলে জানান তারা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে শুধু চুরির বিষয়টি মানতে পারছেন না বলেও জানান সেলিনা। তিনি বলেন, ‘শুধু চুরির জন্য তিনটা খুন হতে পারে না। এটা বিশ্বাস হয় না। এত দিন পুলিশের ওপর ভরসা ছিল না। কিন্তু এখন মন্ত্রী ঘটনায় গুরুত্ব দেওয়ায় ভরসা পাচ্ছি।’

তদন্তে অগ্রগতি না হলে বিষয়টি থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে সেলিনা বলেন, ‘এখন যদি দেখি কাজ হচ্ছে না, তখন আমরা লেগে থাকব। এটার পিছু আমরা ছাড়ব না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও সুষ্ঠু বিচার না হলে আবার সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর কথাও বলেন তারা।

এর আগে মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনা হয়। পরে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আইজিপি ও এসএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন তিনি।

গত ১২ আগস্ট রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় খুন হন এম এ সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।

প্রথমে পুলিশ বাবুলের বরাত দিয়ে প্রেমের সম্পর্ককে হত্যার কারণ বললেও পরে তাঁর আদালতের জবানবন্দিতে টাকা চুরির কথা উঠে আসে। বাবুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে ১৭ আগস্ট নিহত দম্পতির সন্তানরা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

এসএ/সিলেট