ঈদূল আযহাকে ঘিরে গোয়াইনঘাটে...
আলী হোসেন (গোয়াইনঘাট) প্রতিনিধি:: আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে জমে উঠেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। উপজেলার স্থায়ী ১০টি বাজার থাকলেও ১নং...
থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ তদারকি
ছবি সংগৃহীত
আলী হোসেন (গোয়াইনঘাট) প্রতিনিধি:: আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে জমে উঠেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। উপজেলার স্থায়ী ১০টি বাজার থাকলেও ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের হাদারপাড় বাজার উচ্চ আদালতে মামলাধীন রয়েছে। অপর দিকে ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং বাজার,হাকুর বাজার এবছর কোন ইজারা হয়নি তবে উপজেলা প্রশাসন হাট বসিয়ে ইজারা কালেকশন করার কথা জানিয়েছে। এছাড়াও গোয়াইনঘাট বাজার ও সালুটিকর বাজার চলমান সপ্তাহে অস্থায়ীভাবে টেন্ডার দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় মোট ১২টি পশুর হাট বসছে গোয়াইনঘাটে।
উপজেলার স্থায়ী এবং অস্থায়ী পশুর হাট মিলে মোট ১২টি হাট ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অদিদপ্তর বলছে, পশু চাহিদা পূরণে এ বছর কোনো ঘাটতি নেই। ব্যবসায়ী, খামারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাবে এবার গোয়াইনঘাটে কোরবানির পশু ক্রয়বাবদ আনুমানিক ৫/৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ তথ্যের সত্যতা ও নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জামাল খাঁন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৭হাজার ৩শত থেকে ৮হাজার পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে স্থানীয় খামার ওপারিবারিক উদ্যোগে প্রস্তুত রয়েছে ৭০/৮০হাজার পশু-যার মধ্যে ৪০/৫০ হাজার গরু, ২৫/৩০ হাজার মহিষ, ১০ হাজার ছাগল এবং আনুমানিক ২ হাজার ভেড়া।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরে সবচেয়ে বড় পশুর হাট উপজেলার হাদারপাড় বাজারে হলেও আইনি জটিলতায় এবছর পশু ক্রয়বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় গোয়াইনঘাট উপজেলার সব চেয়ে বড় পশুর হাট রাধানগর বাজারে কোরবানির পশুর হাটে গরুর জাত অনুযায়ী বেশ বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। দেশি জাতের গরুর আধিক্য বাজারে বেশি। এ জাতের গরুগুলো স্থানীয়ভাবে খামারে বা পরিবারের নিজ উদ্যোগে পালিত। স্বাস্থ্যবান ও পরিচ্ছন্ন, দামে কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। এছাড়াও বাজারে দেখা মিলছে সংকর জাতের দেশি-ফ্রিজিয়ান বা দেশি-সাহিওয়াল জাতের সংমিশ্রণ জাতের গরু। কিছু কিছু বড় বাজারে ফ্রিজিয়ান জাতের বিদেশি গরুও উঠেছে। ভারতীয় সাহিওয়াল জাতের দেশি সংস্করণ গোয়াইনঘাটের ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয়রা বলেন, পুরোদমে বাজার এখনও জমে ওঠেনি, তবে প্রচুর গরু বাজারে এসেছে। বেপারিদের নিরাপত্তায় বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন রয়েছে। এছাড়াও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ইজারামূল্য থেকেও কিছুটা কম দামে হাসিল আদায় করা হচ্ছে। আশা করি দিন যত গড়াবে, পশুর হাট আরও জমজমাট হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.জামাল খাঁন বলেন, গোয়াইনঘাটের ২৬৬টি গ্রাম মিলে আনুমানিক ৭০/৮০হাজার পশু বিক্রির প্রত্যাশা করছি। এরমধ্যে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।আনুমানিক হিসাব করলে গরু, ছাগল, মহিষ ও অন্যান্য পশু মিলিয়ে আনুমানিক ৩০/৪০ কোটি টাকার অধিক বেচাবিক্রি হওয়ার কথা। এর মধ্যে গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি হওয়াতে টাকার অনুপাত কিছুটা বাড়তেও পারে। তিনি আরো বলেন, গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন জাতের গরু বাজারে রয়েছে। ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর পাশাপাশি মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদা প্রচুর। এখন পর্যন্ত বাজারে বিভিন্ন গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া উঠেছে। আজ থেকে বেচাবিক্রি অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এখন বাজারে লোক সমাগম হচ্ছে, মানুষ এতদিন দেখেছে-আজ থেকে কিনবে। প্রতিটি বাজারে প্রাণিসম্পদ অফিসের নিয়মিত টহল আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে খামারিরা ইনজেকশন পুশ করা কিংবা মোটাতাজা করার জন্য তেমন ওষুধ ব্যবহার করার নজির নেই। তবে আমাদের সারা বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং নজরদারি রয়েছে। হাটবাজারগুলোতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা রয়েছে। আশা করছি সুন্দরভাবে ঈদ বাজার সম্পন্ন হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, ঈদকে সামনে রেখে সকল পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে প্রশাসন নিরংকুশ কাজ করছে। এছাড়াও যাত্রীবাহি সকল যান এবং জনসাধারণের চলাচলে যাহাতে কোন বিগ্ন না ঘটে সেই দিকটা বিবেচনা করে প্রতিটি বাজারের ভেতরে (নির্ধারিত) জায়গায় পশু ক্রয়বিক্রয় করার আহবান জানান তিনি। কোন অবস্থাতেই রাস্তাঘাটে ক্রয়বিক্রয় বা বিঘ্ন ঘটে এমন অবস্থা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় উপজেলার ১২টি হাটে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই কোরবানির পশু ক্রয়বিক্রয়ের আশা করছি।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান জানান, জনসাধারণের জানমালের স্বার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পশুর হাটগুলোতে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মহোদয়'র স্বার্বিক তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ইজারাদারদের সাথে বসে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আমরাও থানা পুলিশ তাদেরকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিটি পশুর হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ইজারাদারদের স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকবে। টাকা-পয়সার নিরাপত্তার জন্য জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনসহ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেশি টাকা-পয়সা আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এসএ/সিলেট