নগরীতে হাতে থালা নিয়ে হকারদের বিক্ষোভ, ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দাবি

post-title

ছবি সংগৃহীত

বিকেল ৫টার পর নগরের ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন হকাররা। রোববার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে নগরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হকার অংশ নেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিলো ভাতের থালা। বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও ছিলো কয়েকজনের হাতে।

এসময় হকাররা বলেন, সারাদিন ব্যবসা করতে না পারলেও অন্তত বিকেল ৫টার পর ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে। তারা দাবি করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফুটপাতের ব্যবসাই অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযানের নামে ‘পুলিশি নির্যাতন’ ও মালামাল জব্দের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানে প্রায়ই হকারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, যা মানবিক নয়।

হকাররা আরও বলেন, কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়বেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটপাতে ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ঘণ্টাব্যাপী এ অবস্থান কর্মসূচি চললেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হকাররা সিটি করপোরেশনের ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন আশেপাশে রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। এরআরেগ গত ১৪ মে একই দাবিতে নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকাররা।

ওইদিন মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেছিলেন, আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ফয়সালা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। সামনে ঈদুল আজহা আসছে। এসময় আমাদেরকে বিকাল ৫টা থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হোক। আমরা চাই না কোন আন্দোলন করতে। কিন্তু কোন প্রতিকার না পাওয়ায় আমাদেরকে রাজপথে থাকতে হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, বৈষম্যহীন এ বাংলায় আমাদের ওপর বৈষম্য না করে বিকেল ৫টার পর সরকারি অফিস-আদালত বন্ধের পর ব্যবসার সুযোগ দিবে প্রশাসন।

বক্তারা আরো বলেন, প্রশাসন যদি এমন আচরণ করে তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? সবসময় হকাররা প্রশাসনের নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।

তৃণমূল হকার ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সংগ্রামী আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রুহুল আমিন রুবেল এর পরিচালনায় ওইদিনের মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন খলিল মিয়া, আওয়াল হোসেন, মিজানুর রহমান, নাসির হোসেন, রুবেল ইসলাম, জাকির হোসেন, শাহ আলম, আব্দুশ শহিদ, জামাল উদ্দিন, হোসেন, আলো দাস, কৃষ্ণ, দেলোয়ার, বারেক আহমদ, তিলু মিয়া, নাহিদ মিয়া, আব্দুর রহিম, অপু মিয়া, রফিক, জুয়েল মিয়া, কাজল মিয়া, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এসএ/সিলেট