বাসিয়া নদী অবৈধ দখলমুক্ত করা...
সিলেটের বাসিয়া নদী অবৈধ দখলমুক্ত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী পরিবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থান...
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত
দেশিয় বাজারে কুরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ক্রমাগত কমে যাওয়ায় চলতি বছর চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেটের কওমী মাদরাসাগুলো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে চামড়া সংগ্রহে পরিবহণ ও সংরক্ষণ বাবদ যে ব্যয় হয়, সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করেও সেই অর্থ ওঠে আসে না। ফলে চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম এখন মাদরাসাগুলোর জন্য আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সিলেট বিভাগীয় কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ নগরীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই কওমী মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে দ্বীন ও ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কুরবানীর চামড়া কওমী মাদরাসাগুলোর পরিচালনার অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে শহর-বন্দর পর্যন্ত আদর্শ মানুষ ও সমাজ গঠনে ভ‚মিকা রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ করে গরিব ফান্ড গঠন করা হতো। এই অর্থে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কয়েক মাসের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। কিন্তু বিগত সরকারের ভুল নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্প ধীরে ধীরে ধসের মুখে পড়ে। বর্তমানে চামড়া সংগ্রহে যে পরিবহণ ব্যয় হয়, বিক্রির মাধ্যমে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। গত বছর কওমী মাদরাসাগুলোকে কাঁচা লবণ সরবরাহের উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও অকার্যকর’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে আগে দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।
মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চামড়া শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনাতেও এ শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হতাশ হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ঈদুল আযহায় সিলেট বিভাগের কওমী মাদরাসাগুলো কুরবানীর পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পের উন্নতি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে গরিব ও এতিম শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কুরবানীর পশুর চামড়া মূলত গরিব ও এতিমদের হক। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে কওমী মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে আসছে। কুরবানীর সময় মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমী মাদরাসাগুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তাই দ্রæত চামড়া খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কওমী মাদরাসাগুলো দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবান ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে আগের মতো সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলে- পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ (দরগাহ মাদরাসা), মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী (দারুস সালাম মাদরাসা), মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
এসএ/সিলেট