সম্মিলিত উদ্যোগে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে হবে : সিসিক প্রশাসক

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সরকার জনকল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। তাই খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

রোববার (১০ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হয় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জনকল্যাণে আমরা সবাই মিলে এ উদ্যোগ সফল করব।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। কোন খাল কোথায় খনন হবে এবং কোথায় বৃক্ষরোপণ করা হবে তা এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেবে এবং সিলেট জেলায় একদিনে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”

সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদ আহমদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ সরকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে।

গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের চারটি সংস্থা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

এসএ/সিলেট