জকিগঞ্জে ৩৫ বছর ইমামতির পর প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে মুসল্লীদের অশ্রুসিক্ত সংবর্ধনা

post-title

ছবি সংগৃহীত

এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী:  সিলেটের জকিগঞ্জে সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের অবসান ঘটিয়ে আবেগঘন পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মানিকপুর পূর্ব দক্ষিণ জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।

শুক্রবার (৮ মে) বাদ জুম্মা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিনের ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রামের প্রবীণ, যুবক ও শিশুসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিদায়ের মুহূর্তে মুসল্লিদের চোখে ছিল অশ্রু আর হৃদয়ে গভীর বেদনা। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু মসজিদের ইমাম হিসেবেই নয়, একজন নৈতিক শিক্ষাগুরু ও সমাজের অভিভাবক হিসেবেও এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, “আমি চলে গেলেও আমার মন পড়ে থাকবে তোমাদের কাছেই। তোমরা লেখাপড়া চালিয়ে যাবে, কখনো বন্ধ করবে না। আল্লাহ যেন সবাইকে কবুল করেন।”

তিনি আরও বলেন, “শিশুদের কোরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি কখনো ছাড় দেইনি। প্রয়োজনে নিজ উদ্যোগে সকালে তাদের মসজিদে নিয়ে এসেছি। মক্তবগুলোকে আবার জীবন্ত করে তুলতে হবে, প্রতিটি শিশুকে নিয়মিত মক্তবে পাঠাতে হবে।”

বিদায়ী বক্তব্যে তিনি গ্রামের নারী-পুরুষ, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং কবরবাসী সকলের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পাশে থেকে সহযোগিতা করায় এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে তাঁর এক সাবেক ছাত্র আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষকের কাছে পড়েছি, কিন্তু তাঁর মতো মানুষ ও শিক্ষক আর দেখিনি। তিনি শুধু একজন ইমাম নন, তিনি আমাদের নৈতিকতার শিক্ষক, আমাদের অভিভাবক।”

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে মাওলানা আব্দুল মালেকের সুস্থতা, নেক হায়াত ও পরকালীন শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাঁর দীর্ঘ ৩৫ বছরের সেবা ত্যাগ ও দ্বীনি অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে আজীবন স্মরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


এসএ/সিলেট