ঢাকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রের...
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হোটেল হাইওয়ে ইন লিমিটেডের নিকটবর্তী জঙ্গল থেকে ঢাকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে মাহির...
ছবি সংগৃহীত
হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুতাং নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বুধবার (সাম্প্রতিক তথ্যমতে) সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুতাং নদীর শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই অংশে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। যদিও খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এতে জেলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা।
কৃষকরা বলছেন, মাঠভর্তি পাকা ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক জায়গায় কাটা ধানও শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। খলাগুলোতেও পানি উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কম থাকায় আপাতত বড় ঝুঁকি নেই। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে সুতাং, খোয়াই, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবে তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার কেবল শুকনো ধান কিনছে, কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় ধান শুকানোই সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যেতিবিকাশ ত্রিপুরা জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার ৯০ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা। পাশাপাশি ১৭ হাজার ২২০ টন চাল সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল বলেন, আগাম বন্যা ও টানা বর্ষণে মিলিয়ে মোট ৩৪৩ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের সহায়তায় সরকার কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, নদীর পানি বৃদ্ধি ও হাওরের ফসলহানিতে হবিগঞ্জে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আবহাওয়া খারাপ হলে যেকোনো সময় তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এসএ/সিলেট