গোয়াইনঘাটে সাব-কন্ট্রাক্টরের অর্ধকোটি টাকা বকেয়া, প্রতারণার অভিযোগ

post-title

ছবি সংগৃহীত

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গোয়াইনঘাটের লেঙুড়া ইউনিয়নের সুলতান আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গোয়াইনঘাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করলেও তার প্রাপ্য অর্থ  অ্ধকোটি টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুস সালাম ও সিটি টেক ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম।

লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পূর্ব পাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম মোশেদের সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে তিনি সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেইট নির্মাণের দায়িত্ব নেন। বরইতলা, সাতকুড়ি, হাকুর বাজার, নিয়াগুলা ও নন্দীরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কাজ চলাকালীন সময়ে কিছু বিল পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে সরকারি বিল উত্তোলনের পরও তার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা হয়। এতে তার মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৫ টাকা এবং অতিরিক্ত ৭৮ হাজার টাকা।

এছাড়া ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ কাজেও তিনি সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই প্রকল্পের প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা হলেও তিনি কোনো অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী এখনও কাজের স্থানে পড়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে তার মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৩ টাকা।

সুলতান আহমদ অভিযোগ করেন, একাধিকবার পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন এবং শ্রমিকদের মজুরি ও নির্মাণ সামগ্রীর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কাজ সম্পন্ন করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবনের সমস্ত শ্রম ও বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে। ন্যায্য পাওনা না পেয়ে আমি দিশেহারা অবস্থায় আছি।

এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পাওনা অর্থ আদায়ের সহযোগিতা দাবি করেন তিনি।

এসএ/সিলেট