সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু বরণ উৎসব

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক-১ ও প্রাক প্রাথমিক-২ এর শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উৎসব করে বরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় বিদ্যালয়ের হলরুমে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে লালগালিচায় ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অতিথিবৃন্দ। 

এরপর হলরুমে শিক্ষার্থীদের মাথায় ফুলের ক্রাউন দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করেন শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এরপর দলীয় ও একক নৃত্য, গান, কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দিন আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সায়মা সুলতানা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সানাউল হক, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক  নাসিমা আক্তার চৌধুরী, বিদ্যালয়ের পিটিএ সভাপতি মুন্সি ইকবাল। শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষর রোমানা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কুমকুম ইয়াসমিন।

বিদ্যালয়ের কল্যান সমিতির সভাপতি আক্তার ফারুক লিটনের সভাপতিত্বে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন।  তিনি বলেন,  এই বিদ্যালয়ের সুনাম সবজায়গা আছে। আমরা বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এবং শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পাঠ দানের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার চেষ্টা করবো। তবে এসব করতে হলে অবশ্যই অভিভাবকদের সহযোগিতা লাগবে। আমরা আশাকরি অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সব নিয়ম মেনে চলবেন।

প্রধান অতিথি সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আজকে এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি ফুল বাগানে এসেছি। এই শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুতে শিক্ষকদের এই সুন্দর অভ্যার্থনা শিক্ষার্থীরা সারাজীবন মনে রাখবে। পাশাপাশি একজন শিশুর সুন্দর জীবন গড়তে হলে অবশ্যই অভিভাবকদের অনেক সচেতন হতে হয়। কারণ শিশুরা একটা সময় পর্যন্ত স্কুলে থাকে। কিন্তু বেশি সময় পরিবারের কাছে থাকে। অভিভাবকরা ভাল বা মন্দ কাজের প্রতিফলন শিশুদের উপর পড়ে। তাই শিশুকালে সঠিক শিক্ষা দিতে স্কুলের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিদ্যালয়ের-৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকা আক্তার মাহি, পবিত্র  গীতা থেকে পাঠ করে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পূর্ণা রানী নাথ, পবিত্র  ত্রিপিটক পাঠ করে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সান্নিধ্যা বড়ুয়া। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে  বক্তব্য দেয় ৫ম শ্রেনির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন।

এসএ/সিলেট