সিলেট উইমেন চেম্বারের আয়োজনে ১০...
আগামী ১০ অক্টোবর থেকে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ মাঠে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘সিলেট বাণিজ্য মেলা ২০২৬’। মেলার আয়োজন করছে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড...
ছবি সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বৃহত্তর সারীঘাট এলাকার বাসিন্দারা ক্বারী নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানার নাম ব্যবহার করে চাঁদা ও অনুদান সংগ্রহসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বৃহত্তর সারীঘাট এলাকার বাসিন্দারা।
বৃহত্তর সারীঘাট এলাকাবাসীর আয়োজনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় জামিয়া কুরআনিয়া সারীঘাট মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া কুরআনিয়া সারীঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হান্নান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বৃহত্তর সারীঘাট এলাকার ঠিকর নয়াখেল, বানই নয়াখেল, সরুফৌদ, রণীফৌদ,খলাগ্রামসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা ক্বারী নাসির উদ্দিনের এহেন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি ‘টিকর নয়াখেল হযরত কামিল শাহ শেখ নাসিরিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা মসজিদ'র নামে দীর্ঘদিন থেকে প্রচারনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, ঐ নামে এলাকায় কোনো স্বীকৃত মাদ্রাসা, মসজিদ বা এতিমখানা নেই; সেখানে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীও নেই। এমনকি কোনো মাজারও নেই বলে তারা দাবি করেন। একটি বসতভিটায় ঘর স্থাপনা তৈরি করে কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে গিয়ে চাঁদা ও অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে নাসির উদ্দিনের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি নয়াখেল টিকর গ্রামের বাসিন্দা কিংবা মুসলিম আলীর ছেলে নন; বরং তিনি ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাতু গ্রামের মৃত সিফত উল্লাহর ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র, উত্তরাধিকারী সনদ ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও লিফলেটের কপি অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন লিফলেট ও প্রচারণায় নাসির উদ্দিনের নামে ‘হাকিম, ক্বারী, সাংবাদিক, লেখক, শাহ, মুহতামিম, সভাপতি, খাদেম, প্রতিষ্ঠাতা ও শেখ’সহ বিভিন্ন পদবি ও পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সিল, প্যাড ও স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানার নামে কেউ প্রতারণা করলে এর প্রভাব প্রকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে। এতে দানশীল মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং প্রকৃত মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানাগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সারীঘাট এলাকার জামিয়া কুরআনিয়া মাদ্রাসাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুনামও এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ সময় বৃহত্তর সারীঘাট এলাকাবাসী দানশীল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া নাসির উদ্দিনের কথিত প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনুদান বা চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি কোনো দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, মেম্বার বা সংসদ সদস্য যেন যথাযথ যাচাই ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোনো সুপারিশ বা সহযোগিতা না করেন, সেই আহ্বানও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, খরিলহাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ,লাফনাউট মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা ফয়জুল করিম, লামনিগ্রাম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, সারীঘাট মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা শিব্বির আহমেদ, সারীঘাট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারোয়ার বেলাল, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মনজুর আহমদ, ইসলামিয়া আন্দোলন গোয়াইনঘাট থানার সভাপতি হাফিজ ইশ্রাক আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অভিযোগকারীরা জানান, নাসির উদ্দিনের কথিত প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, পরিচয়, কাগজপত্র, অনুদান সংগ্রহের কার্যক্রম এবং অভিযোগে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে যেন যাচাই ছাড়া কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান বা সুপারিশ দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে নাসির উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ গুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
এসএ/সিলেট