সিলেটে নিহত ফাহিমার পরিবারের পাশে বিরোধী দলীয় নেতা

রামিসার মতো সিলেটের ফাহিমা হত্যাকান্ডের বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে

post-title

ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, সিলেটের ছোট্ট শিশু ফাহিমার প্রতি নৃশংস হত্যাকান্ডের ২৮দিনেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, চার্জশীট দাখিল হয়নি। দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার বিচার দীর্ঘসুত্রিতার দিকে গেলে আমরা ধরে নেবো বিচার হবেনা।

প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রামিসার কথা বলেছেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিচার হবে, আমরা ফাহিমার বিচারেও এইধরনের ঘোষণা চাই। এর বাস্তবায়ন চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাহিমা হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদানের জন্য পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এইধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে আমরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে তাদের পাশে থাকবো।

তিনি মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১ টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের পাশে সাক্ষাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও জনগণের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি পরিবারের সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আমি গ্রামবাসীদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা ফাহিমার বিপন্ন পরিবারটি পাশে থাকবেন। আমি কথা দিচ্ছি- আমার এবং আমাদের সংগঠন নিজের জায়গা থেকে সবসময় পরিবারের পাশে থাকবে। তাদের কপাল বদলানোর দায়িত্ব আল্লাহর। আমরা বিপদে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব পালন করতে পারি। আমরা লোক দেখানো কোন কিছু করতে চাইনা। বাংলাদেশের যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আমরা সীমিত সামর্থের ভেতরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বলছি- আমি আপনার বিপদ দুর করতে পারবোনা, কিন্তু কষ্টের ভাগ নিতে এসেছি।

তিনি বলেন, যেখানেই মানুষ মজলুম হবে সেখানেই আমরা হাজির হবো। মজলুম কোন দল, মত ও ধর্মের সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা তাকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই পাশে দাঁড়াবো। সিলেটের দুজন মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারাও দায়িত্ব পালন করবেন। এই আসনের মন্ত্রীকে কথা দিয়েছি ফাহিমার বিচারে আমি পাশে থাকবো। আমরা দেখতে চাই এই জনপদের জন্য আপনী ভুমিকা পালন করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, সমাজের লম্পটদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। ফাহিমা ও রামিসাদের আর্তচিৎকার, জীবন আলো নিভে যাওয়া ও তাদের আপনজনের চোখের পানিতে নদী তৈরী হয়ে যাওয়া বর্তমানে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত, নিজেকে ধিক্কার জানাই।

আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জত আমরা রক্ষা করতে পারছিনা। আমরা আবার বড় বড় কথা বলি, ধমকের সুরে কথা বলি। আমাদের কারও কারও আচরণে মনে হয়- আমরা শুধু দুনিয়া না, আসমানকেও শাসন করতে পারি-নাউযুবিল্লাহ। দুনিয়া ও আসমানের শাসন করার এখতিয়ার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমীনের। ক্ষমতায় কেউ গেলে তাকে বিনয়ী হওয়া উচিত। কারণ সরকার হচ্ছে জনগণের পাহারাদার। অথচ তারা দেশবাসীকে তাদের ভাড়াটিয়া মনে করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব কালপ্রিটদের খুজে বের করা ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা। ফাহিমার সাথে অপকর্ম জাকির একা করে নাই। এর সাথে তার পরিবারের লোকজনও জড়িত বলে সবাই বলেছে। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, সদর উপজেলা আমীর নাজির উদ্দিন, নায়েবে আমীর আব্দুল লতিফ লালা ও সেক্রেটারী আল ইমরান প্রমূখ।

এসএ/সিলেট