সিলেট বিএনপির ‘ত্যাগী পাপলুর’ মূল্যায়নের অপেক্ষায় তৃণমূলের কর্মীরা

post-title

সংগৃহীত

সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু একজন পরীক্ষিত ও রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এই নেতার (সিদ্দিকুর রহমান পাপলু) যথাযথ মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তার ত্যাগ এবং অবদানের কথা বিবেচনা করে তাকে দলে আরও বড় মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
বিএনপি সরকার গঠনের ৩ মাসের মধ্যেই সারাদেশে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন শুরু করেছে। সিলেটেরও অনেক নেতা ইতোমধ্যে মূল্যায়িত হয়েছেন। আরও অনেককে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনকারী নেতা পাপলুকেও মূল্যায়ন করা হবে এমন প্রত্যাশা করছেন অনেকে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অনেককে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর যাদেরকে নির্বাচনী জোটের সমিকরণ সহ নানা কারণে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি, তাদেরকে এখন দল বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন শুরু করেছে। মনোনয়ন বঞ্চিত সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। দলের এমন উদ্যোগে ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এসময় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত সমর্থন ও উৎসাহ স্থানীয় বিএনপিকে উজ্জ্বীবিত করে। কিন্তু দলের বৃহৎ স্বার্থে হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর দলের নির্দেশে নির্বাচনী জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন। মনোনয়ন বঞ্চিত সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে এবার দল বড় ধরনের মূল্যায়ন করবে এমন প্রত্যাশা তার কর্মী-সমর্থকদের।
সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি ফেরদৌস আহমদ সাকের বলেন, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। তিনি দলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলায় নির্যাতিত হয়েছেন। তার মতো ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে দল শক্তিশালী হবে।
কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল ও সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ বলেন, জীবন বাজি রাখা এক সংগ্রামীর নাম সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। তৃণমূল থেকে বেড়ে ওঠা সাবেক এই ছাত্রনেতা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১/১১ সেনা শাসিত মঈন উদ্দিন-ফখর উদ্দিন সরকার বিরোধী আন্দোলন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্র্ববর্তী-পরবর্তী আন্দোলন এবং ৮ ফেব্রæয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার দিন সহ সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির এমন নিবেদিত নেতাকে মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূলের কর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবে।
বিএনপির সূত্র আরও জানায়, তৃণমূল থেকে বেড়ে ওঠা ত্যাগী এই নেতা বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল-যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি, সিলেট মহানগরীর সহ সভাপতি ও জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহ ছাত্রদলের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়কের দায়িত্বে থাকাবস্থায় তিনি সিলেটে যুবদলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে নিজেকে বিলিয়ে দেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলে মূল্যায়ন নিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ। দলের চেয়ারম্যানের এই ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশ ও দল ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক