ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটক বরনে প্রস্তুত জাফলং-বিছানাকান্দি

post-title

ছবি সংগৃহীত

আলী হোসেন (গোয়াইনঘাট) প্রতিনিধি:: সিলেট মানেই সবুজে মোড়া এক স্বপ্নরাজ্য। আর সেই স্বপ্নরাজ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম গোয়াইনঘাটের পর্যটন সকল কেন্দ্রেগুলো। প্রাকৃতির স্বানিদ্য পেতে বছরজুড়েই দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জৈন্তাপুরের লালাখাল, গোয়াইনঘাটের পান্তুুমাই ঝর্ণা, বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারী, জাফলং পাথর কোয়ারী, রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট জলারবনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। এখানে ভারতের ডাউকির উঁচু উঁচু টিলা, সবুজ পাহাড়, নদী আর নুড়ি-পাথরের অনন্য সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।

জাফলংয়ের সারিবদ্ধ চা-বাগান, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, গহিন অরণ্য আর ভারত থেকে প্রবাহিত পাহাড়ি ঝর্ণার কলকল ধ্বনি—সব মিলিয়ে সিলেটের প্রতিটি স্পট যেন প্রকৃতির তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। স্বচ্ছ জলের বুকে ছড়িয়ে থাকা হরেক রকমের নুড়ি পাথর, দূর আকাশে মেঘে ঢাকা পাহাড়ীচূড়া—দেখলেই মন জুড়িয়ে যায় যে কারো।

যান্ত্রিক নগরজীবনের কোলাহল থেকে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া খুঁজতে অনেকেই বেছে নেন সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলকে। পাশেই রয়েছে জাফলংয়ের মাযাবী ঝর্ণা। ঝর্ণা ছুয়ে প্রবাহিত স্বচ্ছ জ্বলে শরির ভিজালে পর্যটকদের দেয় রোমাঞ্চকর এক অনন্য অনুভূতি। সিলেটের সীমান্তবর্তী এই পর্যটনকেন্দ্রের ওপারেই ভারতের ডাউকি শহর। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ডাউকি নদী, এখান দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পিয়াইন নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মূলত পিয়াইন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা জাফলংয়ের প্রকৃতি তাই এত বৈচিত্র্যময় ও জীবন্ত।

মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখতে পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরা আর ছবি তোলার এক অনবদ্য যায়গা। পরে নৌকা নিয়ে খাসিয়া পল্লী আর চা-বাগানে গিয়ে সময় কাটানো যায় নিজেদের মত করে। জাফলং ভ্রমণে গেলে কাছাকাছি আরও বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর স্থানে ঘুরা যায়।

জৈন্তাপুরের লালাখাল, ডিবিরহাওর, গোয়াইনঘাটের সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি, পান্তুমাই ঝর্ণাধারা। প্রতিটি জায়গাই নিজস্ব সৌন্দর্যে ভরপুর, যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও সমৃদ্ধ ও রোমাঞ্চকর। যেভাবে যাবেন: প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সিলেটে। সিলেট শহর থেকে কদমতলী বাসস্ট্যান্ড কিংবা সোবহানীঘাট থেকে সরাসরি গেইটলক বাসে করে আসতে পারেন জাফলংয়ে। এতে গেইটলকের ভাড়া নেবে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে। এছাড়াও সিএনজি কিংবা মাইক্রো ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় জাফলংয়ে।

কোথায় থাকবেন: সিলেট শহর'র পাশাপাশি পর্যটন এলাকা জাফলংয়েও রয়েছে উন্নতমানের বহু হোটেল ও রিসোর্ট। স্বল্প বাজেটের আবাসনের ব্যবস্থাও আছে। পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় হাওর বাওর'র মাছ,দেশীয় সকল ধরনের মাংসসহ নানাবিধ খাবার'র ভরপুর ব্যবস্থা। এছাড়াও যাতায়াতের জন্য রয়েছে কাঠ দিয়ে তৈরি পৃথক পৃথক নৌ ব্যবস্থা। প্রকৃতির অকৃপণ সৌন্দর্য, পাহাড়ি হাওয়া আর নদীর স্বচ্ছ জলে পা ভিজিয়ে কাটানো কিছু নির্ভার মুহূর্ত-সব মিলিয়ে সিলেট হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের সেরা ঠিকানা।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঈদুল আজহা'র দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের স্বার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্লে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ'র পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এ লক্ষ্য পুলিশের ফুড পেট্রোল, পেট্রোল টিম, টুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ নিরংকুশ দায়িত্ব পালন করবে। যে কোন ধরনের অপৃতিকর ঘটনা কিংবা অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

জাফলংসহ গোয়াইনঘাট'র সকল পর্যটন স্পট নির্বিঘ্নে ঘুরে দেখতে থানা পুলিশ'র পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পর্যটকদের কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই প্রাকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

এসএ/সিলেট