গোলাপগঞ্জে এলপিজি সংকট ও মূল্য নৈরাজ্য, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

post-title

গোলাপগঞ্জে অবস্থিত কৈলাশটিলা গ্যাস প্লান্ট

গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা::

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় কৈলাশটিলা এলপি প্ল্যান্ট চালু থাকলেও সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে সরাসরি কোনো সরবরাহ না থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে করে বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডার বর্তমানে ১৭৫০ থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্ল্যান্ট সচল থাকলেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ওই চক্র প্ল্যান্ট থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছে এবং ব্যবসায়ীরা তা অধিক দামে বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, আগে তারা সরাসরি প্ল্যান্ট থেকে স্বল্পমূল্যে গ্যাস পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় বুধবার সকালে কৈলাশটিলা প্ল্যান্টের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সরাসরি সরকারি দামে গ্যাস সরবরাহ চালুর দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু স্থানীয় প্ল্যান্টের গ্যাস নয়—বাজারে থাকা অন্যান্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

জানা যায়, একসময় উপজেলার মানুষ সরাসরি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারতেন। কিন্তু প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে প্ল্যান্ট পুনরায় চালু হলেও এখন পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সরাসরি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়নি।

এদিকে গ্যাস লাইন সংযোগের প্রতিশ্রুতি নিয়েও ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিলেও দীর্ঘদিনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সংযোগ প্রদান এবং জমা দেওয়া অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে একটি সিন্ডিকেট এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গোলাপগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট নিরসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা কৈলাশটিলা এলপি প্ল্যান্ট থেকে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এসএ/সিলেট