কাঠইর ইউনিয়নকে আদর্শ ইউনিয়নে গড়তে মাঠে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মঈনুল হক মুমিন

ঈদের শুভেচ্ছায় উন্নয়নের অঙ্গীকার, আলোচনায় মঈনুল হক মুমিন

post-title

তাজিদুল ইসলাম

 ঈদুল আযহার মহিমান্বিত ও আনন্দঘন মুহূর্তে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নং কাঠইর ইউনিয়নের সর্বস্তরের সম্মানিত জনগণসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট দ্বীনি ব্যক্তিত্ব মাওলানা মঈনুল হক মুমিন।

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন- পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের অনুপম শিক্ষা বহন করে। হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অতুলনীয় কুরবানির স্মৃতি আমাদের সামনে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, ঈমান এবং মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা কেবল পশু কুরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের অন্তরের অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ ও অন্যায়ের প্রবণতাকে কুরবানি করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে এর প্রকৃত তাৎপর্য। আসুন, আমরা ঈদের এই মহান শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা। ধনী-গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হোক আমাদের ঈদের প্রকৃত আনন্দ ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ।

উল্লেখ্য, শিক্ষাবিদ মাওলানা মঈনুল হক মুমিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঘোলেরগাঁও গ্রামের মরহুম মাওলানা আব্দুল ওয়াহিদ (রহ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র। জ্ঞানচর্চা, দ্বীনি আদর্শ ও মানবসেবার পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই আলোকিত ব্যক্তিত্ব শিক্ষা ও সমাজসেবার অঙ্গনে সুপরিচিত এক নাম।

শিক্ষাজীবনে তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার অধীনে হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ বিভাগে কামিল (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমসি কলেজ, সিলেট থেকে কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এছাড়াও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট হতে “ডিপ্লোমা ইন এরাবিক” সম্পন্ন করে তিনি আধুনিক ও ইসলামি জ্ঞানের সমন্বয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন।

কর্মজীবনে তিনি পশ্চিম সিলেটের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোবিন্দনগর ফজলিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, মার্জিত উপস্থাপনা ও মানবিক নেতৃত্ব সর্বমহলে প্রশংসিত।

সামাজিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বামাশিকফো), ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি,ইত্তেহাদুল উলামা পরিষদ, সুনামগঞ্জ-এর সহ-সভাপতি, এবং মানবিক ফাউন্ডেশন, কাঠইর ইউপি’র সম্মানিত নায়ীবে আমীর  হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ঐক্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও বলেন আমি একটি আদর্শ, শিক্ষিত,শান্তিপূর্ণ,দু্র্নীতি ও মাদকমুক্ত  কাঠইর ইউনিয়নের স্বপ্ন দেখি। আমাদের এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে, তরুণ সমাজকে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি সর্বদা কাজ করে যেতে চাই। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাঠইর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সহযোগিতা পেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।

পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে সকলের সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন—

“ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন, ভালোবাসা ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ হোক সমাজ এবং ঈদুল আজহার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে ঘরে।৷ ঈদ মোবারক।

টিএ/ছাতক