বসন্তের রঙে রঙিন এমসি কলেজ সিলেট।

এমসি কলেজ মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ১৮তম বসন্ত বরণ উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস

post-title

তাজিদুল ইসলাম

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ ক্যাম্পাস যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাসন্তী স্বর্গে। বর্ণিল আয়োজন ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক সংগঠন মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন উদযাপন করেছে তাদের ১৮তম বসন্ত বরণ উৎসব।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামের পাশে দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকসন দাশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মোহনার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন উজ্জ্বল।

বসন্তের আবহকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ভিড় জমাতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠা তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। চারদিকে যেন ছড়িয়ে পড়ে নতুন ঋতুর উচ্ছ্বাস ও প্রাণের স্পন্দন।

মোহনার শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘আহা, আজি এ বসন্তে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দিনজুড়ে চলে একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। এতে ছিল সমবেত সঙ্গীত, একক গান, দলীয় ও দ্বৈত নৃত্য, নাটিকা, কোরিওগ্রাফি, আবৃত্তি, ধামাইল গান এবং আকর্ষণীয় র‍্যাম্প শো।

বিকেলের পড়ন্ত রোদে লোকগানের সুরে শেষ হয় উৎসবের আয়োজন। তবে রয়ে যায় উৎসবের রঙিন স্মৃতি, যা দীর্ঘদিন ধরে নাড়া দেবে উপস্থিত সবার হৃদয়ে।

মোহনার বর্তমান কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি বিশ্ব মঙ্গল দাসের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সভাপতি শাহ রাকিবুল হাসান রাফি ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হুমায়রা প্রমির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের সংস্কৃত বিভাগের প্রফেসর সুনীল ইন্দু অধিকারী, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ফৌজিয়া আজিজ, সহযোগী অধ্যাপক জেবিন আক্তার, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক অগ্রাতা সৌরভ, মোহনার সাবেক সভাপতি জুবায়ের আহমেদ রাকিব এবং অনবদ্য সদস্য সায়েম আহমেদ চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোহনা সেই দায়িত্বটি প্রতিবারই অত্যন্ত সফলভাবে পালন করে আসছে।

উৎসব শেষে পুরো এমসি কলেজ ক্যাম্পাস যেন হয়ে ওঠে এক টুকরো বাসন্তী আবেশে ভরা স্মৃতির ভাণ্ডার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের প্রাণে রেখে যায় আনন্দ, ভালোবাসা আর সংস্কৃতির উজ্জ্বল ছোঁয়া।

টিএ/ছাতক