শ্রীমঙ্গলে পতিত জমিতে ভুট্টা চাষে সাফল্য

post-title

ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পতিত জমিকে চাষের আওতায় এনে ভুট্টা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ এবং নিবিড় মাঠ তদারকির মাধ্যমে চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৩৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি প্লটের আয়তন ৩৩ শতক (প্রায় ১ বিঘা)। এসব প্লটে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, বালাইনাশক ও বীজ শোধক সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভুট্টা চাষে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের জন্য একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব প্রশিক্ষণে জমি প্রস্তুতকরণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি এবং রোগবালাই দমনসহ ভুট্টা চাষের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়েছে। ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রদর্শনী প্লট দেখে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেঙ্গারবন গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আহসান হাবিব জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ১৮০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ফসল বিক্রি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনা ও নিয়মিত পরামর্শ পেয়ে তিনি উপকৃত হয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরাও জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির ফলে ভুট্টা চাষ এখন সহজ ও লাভজনক হয়ে উঠেছে। অনেকেই নতুন করে পতিত জমিতে ভুট্টা আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শ্রীমঙ্গলে ভুট্টা চাষের পরিধি আরও বাড়বে। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএ/সিলেট