সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে আলোচনায় সৈয়দা আদিবা হোসেন

post-title

ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়বাদী দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী শিগগিরই দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতেই বণ্টন হয় সংরক্ষিত নারী আসন। ইতিমধ্যে সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা। এবার সিলেট অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সংরক্ষিত এই নারী আসনে কয়েক জন নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তৃণমূল বিএনপিতে গুরত্বসহকারে আলোচনা হচ্ছে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের লেচু মিয়ার কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেনকে নিয়ে।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট -৬ আসনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন সাবেক এমপি কন্যা আদিবা হোসেন। প্রার্থীতা ঘোষণা করার পর থেকে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে এই দুই উপজেলার পাড়া মহল্লায় গিয়ে দলীয় প্রধানের বার্তা পৌঁছে দেন ।

প্রতিদিনই তাকে দেখা যেতো কখনো গ্রামের উঠান বৈঠকে, কখনো স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা ধারণা করেছিলেন হয়তো বা তিনি বিএনপির মনোয়ন পেতে পারেন। কিন্তু শেষ মূহুর্তে নবনির্বাচিত এমপি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিএনপি মনোনীত করলে তাকে বিজয়ী করতে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তৃণমূল বিএনপির নেতারা জানান, পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে এসেছেন কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন । নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স অব অ্যাডমিনিস্টশনে এমবি সম্পন্ন করা উচ্চশিক্ষিতা ও প্রগতিশীল এই নারী বাবার মতো মানুষের সেবা করার উদ্দীপনা নিয়ে এসে নিজের রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় ইতিমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ত্রযোদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মিডিয়া সেলে তিনি কাজ করেছেন। বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি সৈয়দা আদিবা সামাজিক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়াও তিনি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য কাজ করা ফাউন্ডেশন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সহায়তা দেওয়ার উইমেন্স সাপোর্টো গ্রুপ বিডি এর সাথে যুক্ত রয়েছেন।

সৈয়দা আদিবা হোসেন সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করার আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেন, আমার পিতা মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্যই আমি রাজনীতিতে এসেছি। গত নির্বাচনে আমি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল অন্য একজনকে মনোনীত করলে, আমি সর্বোচ্চ দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করেছি এবং আমরা সফল হয়েছি। সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে কাজের পরিধি আরও সুদীর্ঘ হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই মিলে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবো এবং অংশীদার হব।

প্রসঙ্গত নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জোটগতভাবে বিএনপি পেতে পারে ৩৭টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পেতে পারেন। আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।



এসএ/সিলেট