রক্তে লেখা ভাষা; কণ্ঠে তার...
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাংলার তরুণেরা রাজপথে নেমেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে...
ফাইল ছবি
একটি জাতির জীবনে জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়—এটি একটি সময়, যখন নাগরিকের বিবেক, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম এক বিন্দুতে এসে দাঁড়ায়। এই সময়ে আমরা কেবল দল বা প্রার্থীর কথা ভাবি না; ভাবি আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের আগামী, ভাবি রাষ্ট্রের পথচলা। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আজ আমাদের প্রার্থনা মাত্র দুটি।
এক— আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণের মতামতের প্রকৃত ও নিখুঁত প্রতিফলন ঘটে।
দুই— মানুষের জীবন যেন কোনোভাবেই রাজনীতির বলি না হয়।
একটি প্রাণ হয়তো পরিসংখ্যানের খাতায় একটি সংখ্যা মাত্র। কিন্তু সেই প্রাণটির পেছনে থাকে একটি পরিবার—থাকে বাবা-মা, সন্তান, স্বপ্ন আর অপূর্ণ ভবিষ্যৎ। একটি মৃত্যুর সঙ্গে নিভে যায় কত শত আশা, ভেঙে পড়ে একটি সংসারের ভিত্তি। কোনো রাজনৈতিক অর্জন, কোনো ক্ষমতার হিসাবই একটি পরিবারের আজীবন শূন্যতা কখনো পূরণ করতে পারে না। তাই নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—কোনো পক্ষের কাছেই নয়।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যেন মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে; পারে রাজনৈতিক উত্তাপকে সুস্থ ও শালীন প্রতিযোগিতায় রূপ দিতে।
তবে দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রের নয়—দায়িত্ব আমাদের সবারও। নাগরিক হিসেবে আমাদের আচরণ, ভাষা ও সহনশীলতাই ঠিক করে দেবে আমরা কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলছি।
শেষ পর্যন্ত যে দলই জিতুক, আমাদের লড়াই ও বিরোধিতা যেন থাকে কেবল মতাদর্শগত। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা, গুজব ও চরিত্রহনন আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। কারও মতের সঙ্গে মত না মিললেই তাকে শত্রু বানিয়ে ফেলা, ঘৃণার ভাষায় আক্রমণ করা—এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।
ভোট আসবে, যাবে। ক্ষমতা বদলাবে। আজ যারা রাজনীতির মঞ্চে আছেন, কাল তারা থাকবেন না। আমরাও একদিন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাব। কিন্তু থেকে যাবে দেশ—আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। তাই কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ যেন কখনোই দেশের চেয়ে বড় না হয়। সবার আগে বাংলাদেশ—এই বোধটাই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।
সব মত ও পথের ঊর্ধ্বে উঠে আজ তাই একটিই প্রার্থনা—
শেষ পর্যন্ত জয়ী হোক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।
দেশ বাঁচাতে হলে আগে আমাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। আর সেই অধিকার চর্চার প্রথম ধাপ হলো ভোট প্রদান। শান্তিপূর্ণভাবে, ভয়হীনভাবে ভোট দেওয়াই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে।
আসুন, উদাসীনতা নয়—দায়িত্ববোধকে বেছে নিই।
আসুন, নিজের জন্য, দেশের জন্য ভোট দিই।
Every vote counts.
দেশ বাঁচাতে চলুন ভোট কেন্দ্রে যাই।
লেখক : ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী,
সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
জুয়ে/সিলেট