সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড:

ধর্মের নামে ন্যায়বিচার বিসর্জন নয়।

post-title

সংগৃহিত


সত্য উদ্‌ঘাটন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পবিত্র ধর্মের নামে কোনো অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া যায় না। ইসলাম ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়, অন্যায়ভাবে মানুষের প্রাণ হরণ নিষিদ্ধ করে এবং ক্ষমতাবানদেরও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তাই সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নগুলো স্পষ্টভাবে সামনে আনা জরুরি।

পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা কোনো বিশেষ ব্যক্তি, শ্রেণি কিংবা রাষ্ট্রের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। সুরা আন-নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের নিজেদের, মা-বাবা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা ক্ষমতার প্রভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সুরা আল-ইসরার ৩৩ নম্বর আয়াতে অন্যায়ভাবে মানুষের প্রাণ হরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরা আন-নূরের ৪ নম্বর আয়াতে ব্যভিচারের অভিযোগে প্রমাণের কঠোর শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুরা আন-নূরের ২ নম্বর আয়াতে ব্যভিচারের অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এসব আয়াতের প্রয়োগ, অপরাধের আইনি সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও আইনগত বিধান যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।

কোরআনের এই শিক্ষার মূল তাৎপর্য স্পষ্ট: ন্যায়বিচার কোনো শাসকের অনুগ্রহ নয়, কোনো সরকারের প্রচারকৌশল নয় এবং ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিশেষাধিকারের বিষয়ও নয়। ন্যায়বিচার এমন একটি নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব, যার কাছে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিকেও জবাবদিহি করতে হয়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত আইনি ও মানবিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জনসমক্ষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।

প্রথমত, সৌদি আরবে বাংলাদেশি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার নথিতে যদি ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগের উল্লেখ থেকে থাকে, কিন্তু সেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ না থাকে, তাহলে এই আপাত অসংগতির ব্যাখ্যা কী? সংশ্লিষ্ট নথিগুলোতে কী তথ্য ছিল, সেগুলো কখন হালনাগাদ করা হয়েছিল এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে অবহিত করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল? কোন অপরাধে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল? আদালতে কী ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কি নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার, আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কার্যকর সুযোগ পেয়েছিলেন?

তৃতীয়ত, কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? বিচারিক সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ যুক্তি কী ছিল? রায় ঘোষণার পর আপিল বা অন্য কোনো আইনি প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ থাকলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল?

এগুলো নিছক আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন নয়। এগুলো মানুষের জীবন, বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার রাখা দরকার। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আমরা বলতে পারি না যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্দোষ ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ছিল কিংবা তাঁদের বিচার অবশ্যই অন্যায্য হয়েছে। একইভাবে, কোনো সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে বলেই সেই শাস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়সংগত প্রমাণিত হয় না। ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিতে হলে অভিযোগ, প্রমাণ, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া—সবকিছুর যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ন্যায়বিচার মানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিনা বিচারে নির্দোষ ঘোষণা করা নয়; ন্যায়বিচার মানে যথাযথ প্রমাণ, নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করা।

ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। সৌদি আরব ইসলামের পবিত্র দুই মসজিদের অভিভাবক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিশেষ ধর্মীয় মর্যাদা বহন করে। ফলে দেশটির বিচারব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ধর্মীয় মর্যাদা কোনো রাষ্ট্রকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে দিতে পারে না।

বরং যারা ধর্মের নামে শাসন পরিচালনা করেন, তাঁদের দায়িত্ব আরও বেশি। কারণ তাঁদের সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনকেই প্রভাবিত করে না; একই সঙ্গে ধর্মীয় ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিশ্ববাসীর ধারণাকেও প্রভাবিত করে।

কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করা সহজ, কিন্তু সেই আয়াতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অনেক বড় দায়িত্ব। ধর্মীয় বিধানের উল্লেখ করে কোনো শাস্তির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলেই বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর অবসান ঘটে না। একটি ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থাকে তার সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতে হবে। আদালতের রায়, প্রযোজ্য আইনের ব্যাখ্যা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্য যতটুকু আইনসম্মতভাবে প্রকাশ করা সম্ভব, তা জনসমক্ষে আনা হলে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। রাষ্ট্রের ক্ষমতা যত বড়ই হোক, মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে কম নয়। আর ধর্মীয় পরিচয় যত গুরুত্বপূর্ণই হোক, ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অজুহাত হতে পারে না। বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব: প্রতিবাদ নয়, কার্যকর পদক্ষেপ , সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতি ও পরিবারগুলোর জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁদের শ্রমে অর্জিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা প্রত্যেকে একটি পরিবারের আশা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের অংশ।

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা কিংবা আইনি অধিকার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়লে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব কেবল আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট নাগরিকের অধিকার রক্ষা, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। প্রথমত, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক রায়, অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং প্রযোজ্য আইনি বিধানের ব্যাখ্যা চাইতে হবে। মামলার তথ্য প্রকাশে কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলে, সেই সীমাবদ্ধতার প্রকৃতি সম্পর্কেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি কনস্যুলার নথিতে অভিযোগের বিবরণ ও মৃত্যুদণ্ডের তথ্যের মধ্যে যে আপাত অসংগতির কথা বলা হচ্ছে, তা যাচাই করতে হবে। নথিগুলোতে কী ছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করা হয়েছিল, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, দুই বাংলাদেশির পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য, আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে। পরিবারগুলো যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় এবং তাঁদের প্রাপ্য আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। চতুর্থত, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাইতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপযুক্ত মানবাধিকার ও আইনি পর্যালোচনা ব্যবস্থার সহায়তাও বিবেচনা করা উচিত।

পঞ্চমত, ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে মৃত্যুদণ্ডসহ গুরুতর শাস্তির মুখোমুখি হলে তাঁর পরিবারকে অবহিত করা, কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রতিকার সম্পর্কে যথাসময়ে তথ্য দেওয়ার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের কূটনীতি হতে হবে তথ্যনির্ভর, দৃঢ় এবং ফলাফলমুখী। সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বন্ধুত্বের অর্থ নীরবতা নয়। প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা এবং দায়িত্বশীল আচরণ।

ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক, সৌদি আরবের নাগরিক কিংবা অন্য কোনো দেশের নাগরিক—এই পরিচয় তাঁর জীবনের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। একইভাবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দরিদ্র শ্রমিক নাকি প্রভাবশালী ব্যক্তি, তাঁর ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় কী কিংবা তিনি কোন দেশের আইনের আওতায় বিচারাধীন—এসবের কোনোটিই ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে অকার্যকর করতে পারে না। আমাদের দাবি এই নয় যে সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্বনির্ধারিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দাবি হলো, এই দুই বাংলাদেশির মামলায় কী ঘটেছে, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানার সুযোগ থাকতে হবে। অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলে সেগুলোর যুক্তিসংগত উত্তর পাওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার মানে কেবল নিজের পছন্দের ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচার দাবি করা নয়। বরং যাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রেও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলা। কারণ বিচারব্যবস্থার শক্তি শুধু অপরাধের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতায় নয়; বরং সেই শাস্তি আইনসম্মত, যুক্তিসংগত এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়েছে—তা প্রতিষ্ঠা করার সামর্থ্যে।আমাদের দাবি: সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান—দুই বাংলাদেশির মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক তথ্য প্রকাশের আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তি ব্যাখ্যা করুন, মৃত্যুদণ্ডের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করুন এবং কনস্যুলার নথি নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব দিন। প্রয়োজনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনার সুযোগ নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—এই ঘটনাকে কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখবেন না। সত্য উদ্‌ঘাটনে দৃঢ় ভূমিকা পালন করুন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান এবং সব ধরনের প্রযোজ্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রতিকার অনুসন্ধান করুন।

একই সঙ্গে আমাদের সমাজের প্রতিও আহ্বান—ঘটনাটি নিয়ে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বা যাচাইহীন অভিযোগের পরিবর্তে তথ্য, যুক্তি ও ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে কথা বলুন। কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত; কিন্তু সেই বিচার যেন যথাযথ প্রক্রিয়া ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।পবিত্র কোরআনের শিক্ষা আমাদের ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের জীবনের মর্যাদা রক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যারা ইসলামের নামে শাসন করেন, তাঁদের কাছে প্রত্যাশা আরও বেশি—তাঁরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের আলোকে ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত থাকেন।আমরা কারও বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলতে চাই না। আমরা কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে অযথা বিরোধও চাই না। আমরা চাই সত্য প্রকাশিত হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো নাগরিক যেন অবহেলার শিকার না হন। ধর্মের নামে অন্যায়কে আড়াল করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নামে জবাবদিহি এড়ানো যাবে না। আর ন্যায়বিচারের নামে এমন কোনো সিদ্ধান্তকে প্রশ্নাতীত বলে ধরে নেওয়া যাবে না, যার ভিত্তি সম্পর্কে যুক্তিসংগত প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।আমাদের দাবি একটাই—সত্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার। সম্পদ, ক্ষমতা, জাতীয়তা কিংবা রাজকীয় মর্যাদা—কোনোটিই যেন ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

: লেখক: ড. জাকী মোস্তুফা টুটুল, 

সদস্য, রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (চ্যাথাম হাউস), ইউ,কে.

   ও

সাবেক উপদেষ্টা : যুক্তরাজ্য বিএনপি। 

কাওছার আহমদ