মা ও শিশুর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে জগন্নাথপুরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

post-title

ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মা ও শিশুদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ‘দ্য চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেন্টস’-এর সহায়তায় জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কৃপেশ রঞ্জন রায়ের সভাপতিত্বে এবং কেয়ার বাংলাদেশের টিম লিডার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসীন উদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের ডেপুটি ডিরেক্টর ডাক্তার রওনক জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাওসার আহমেদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ।

বক্তব্য রাখেন- কেয়ার বাংলাদেশের প্রজেক্ট অফিসার শেখ রাফিয়া করিম, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিক মিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজমুদ্দিন, শিক্ষক রুপক কান্তি দেব, সাংবাদিক শাহজাহান মিয়া, গোবিন্দ দেব, হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া।

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করছে কেয়ার বাংলাদেশ, আইডিই বাংলাদেশ, হারভেস্টপ্লাস সলিউশনস এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট।

সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর একটি অন্যতম কৃষিনির্ভর হাওর ও নদীবেষ্টিত এলাকা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী করতে মা ও শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই। এখানকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র-পুষ্টি উপাদান (MMS) এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর গুঁড়ো (MNP)-এর ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মা ও শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওজন পর্যবেক্ষণ আবশ্যক।

কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়ে বক্তারা বলেন, জলবায়ু-সহনশীল জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব। পাশাপাশি নারীদের 'পুষ্টি উদ্যোক্তা' হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার সহজলভ্য করছে। ওয়াস (WASH) ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিরাপদ পানি ও সঠিক স্যানিটেশন নিশ্চিতে নারী-পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসা টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেয়া হয়। স্থানীয় সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পুষ্টির এই উদ্যোগকে টেকসই করা এবং দরিদ্র নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সাথে যুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, এই উপজেলায় ৭৬,৩৫৩ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পুষ্টি সেবা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬৫৭ জন শিশুকে 'পুষ্টিকণা' দেয়া হয়েছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সেবার আওতায় প্রায় ২০০০ শিশুকে পর্যায়ক্রমে নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি শেষ হলে উপজেলায় ৫টি পুষ্টি বাগানের কার্যক্রম শুরু হবে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় মৎস্য সম্পদ মানুষের পুষ্টির বড় জোগানদার হলেও হাওরে মাছ কমে যাচ্ছে। মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প আর্থিক সহায়তার জন্য কেয়ার বাংলাদেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। নারীদের অধিকার, কর্মপরিবেশের সুরক্ষা, পুষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেয়ার বাংলাদেশের চলমান কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন অতিথিরা।

এসএ/সিলেট