গরীতে ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়...
নগরীর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। হত্যার আগে শিশু ফাহিমা আক্তারকে...
‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’
ছবি সংগৃহীত
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।
চারবছরের এই শিশু হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সম্পর্কে চাচা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল। তারা জানায়, সোমবার (১১ মে) রাতে তথপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জালাবাদ থানার সোনাতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাকির হোসেন ওই থানার সোনাতলা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত তোতা মিয়া ও মোছা. রুকিয়া বেগমের ছেলে।
জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।
এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।’
জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’
এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা ণিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মুজাহিদুল ইসলাম।
আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।
গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।
সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।
এসএ/সিলেট