জগন্নাথপুরে অতিবৃষ্টিতে হাওরে তলিয়ে গেছে পাকা ধান

post-title

ছবি সংগৃহীত

মো. হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে লাগাদার বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে দেখা গেছে, উপজেলা সর্ব বৃহত্তম নলুয়ার হাওর মইয়ার হাওর,  বাগময়না, ভালিশ্রী ও পিংলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানির নিচে ডুবে গেছে কৃষকদের অতি কষ্টে ফলানো সোনালী ফসল , সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার।

নলুয়ার হাওরের কবিরপুর, হলদিপুর, চিলাউড়া, ভূরাখালি, নলুয়া নয়াগাঁও  গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া, জুয়েল মিয়া, আহমদ মিয়া, মিলাদ মিয়া, রুয়েল, করিম, সাজাদ মিয়া, দলু মিয়া, আনর, রপিজ আলী, কমলা মিয়া, ময়না মিয়া, চান মিয়া, বাবুল মিয়া, আব্দুল আলী সহ অনেক জানান, ১৫ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ৫ কেদার জমির ধান তুলতে পেরেছি, বাকিটা টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ফসল গোলায় তুলতে পারেননি।

মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক ফয়জুল হক বলেন, ধারদেনা করে অনেক কষ্ট করে বোরো ফসল আবাদ করে ছিলাম বৃষ্টির কারণে ফাঁকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় তার পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একইভাবে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের কৃষক মামদ আলীও জানান, বর্গা ও ধার করে চাষ করা ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন সংসার চালানো ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভালীশ্রী গ্রামের কৃষক আশরাফুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে তার অধিকাংশ জমির ধান পানির নিচে। জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, ১০ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ২ কেদার ধান কাটতে পেরেছেন; বাকি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টু বলেন, শুরু থেকেই জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে ভুগছিলেন কৃষকরা। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, নলুয়ার হাওড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। ইতোমধ্যে বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে হারভেস্টার মেশিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিক সংকটও রয়েছে।’

তিনি জানান, বাঁধগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে এবং কোথাও ভাঙনের ঝুঁকি নেই। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এসএ/সিলেট