ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা আদায় ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ আদালতের

ছাতকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুই সন্তানের জননী ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সুনামগঞ্জে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বোবরাপুর (দিগলবন) গ্রামের আমিনুর রশিদের ছেলে কাইফ আহমদ (২১)সহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী দুবাইয়ে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত কাইফ আহমদ তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ ভুক্তভোগীর ঘরে গিয়ে তাঁর চাচা শ্বশুরের কথা বলে তাঁকে অন্য ঘরে ডেকে নেন অভিযুক্ত। সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে ভুক্তভোগী ফিরে যেতে চাইলে দরজা বন্ধ করে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সর্বশেষ আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অভিযুক্ত তাঁর মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এ ছাড়া তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণ, ভিডিও প্রকাশ, অর্থ আদায় ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা করার চেষ্টা করেও সম্ভব না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাইফ আহমদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।

টিএ/ছাতক