সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণের...
“সর্বজনীন বাসস্থান–টেকসই নগরায়ণ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব বসতি...
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাজ্যে (ইউকে) ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নগরের জিন্দাবাজার কাকলী শপিং মলের ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামের একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী পাওনা টাকা ফেরত ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট হিসেবে মো. মুক্তার হোসাইন ও ইমন আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যুক্তরাজ্য যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সূত্রে তিনি ‘লিগ্যাল এজ সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী এর মৃত আমরু মিয়ার পুত্র মো. মুক্তার হোসাইন ও সিলেটের দক্ষিন সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের নাজিরগাঁও বাহাপুর এর ইসকন্দর আলী ভিলার আব্দুল জলিল এর পুত্র ইমন আহমদ এর সাথে যোগাযোগ করেন।
গত ০৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অফিসে আলোচনার পর বিবাদীরা জানান যে, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য মোট ১৭,৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা) খরচ হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রসেসিং ফি হিসেবে একই দিনে ১ (এক) লক্ষ টাকার চেক (নং-বিএস২৫-১২৮৭৭১২) প্রদান করেন ভুক্তভোগী নারী। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল- কোনো কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রদত্ত সমস্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিবাদীগণ ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জানান যে, তাঁর ভিসার ‘কস’ (ঈঙঝ) চলে এসেছে এবং দ্রুত অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিবাদীদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
টাকা হস্তান্তরের বিবরণ : ১. ২০/১১/২০২৪: বাদীর পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২. ২০/১১/২০২৪: (পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হতে) পূবালী ব্যাংক (শাহজালাল উপশহর শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৪ লক্ষ টাকা। ৩. ২৫/১১/২০২৪: (পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হতে) পূবালী ব্যাংক (শাহগলি বাজার শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ৫ লক্ষ টাকা। ৪. ২৬/১১/২০২৪: ((পরিবারের সদস্যের হিসাব নম্বর হইতে বিয়ানীবাজার শাখা) থেকে ২নং বিবাদী ইমন আহমদের ডাচ-বাংলা ব্যাংক (উপশহর শাখা) হিসাবে ১০ লক্ষ টাকা। ৫. ০৯/১২/২০২৪: (বিবাদীর নিজ হিসাব নম্বর হইতে)পূবালী ব্যাংক (শিবগঞ্জ শাখা) হিসাব থেকে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ৬. ০৯/১২/২০২৪: ক্যাশ ডিপোজিটের মাধ্যমে ১নং বিবাদীর ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক (বিশ্বনাথ শাখা) হিসাবে আরও ৬০ হাজার ১২০ টাকা।
পরবর্তীতে গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদীর ভিসা রিফিউজ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীরা নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদী ইমন আহমেদ মোক্তার হোসেনের আপন ভাগনা (ভগ্নীর ছেলে) সর্বশেষে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২নং বিবাদীর পিতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার কোনো দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানান।
একই দিনে হোয়াটসঅ্যাপে ১নং বিবাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে স্পষ্টভাবে মানা করে দেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে অজ্ঞাতনামা লোকজন দিয়ে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বাদী জানান, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আমার সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি আর্থিক পারিবারিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএ/সিলেট