জাফলংয়ে নিজ স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকায় ভারতে পাচারের চেষ্টা : ৪ মানব পাচারকারী গ্রেফতার

post-title

ছবি সংগৃহীত

আলী হোসেন (গোয়াইনঘাট ) প্রতিনিধি:: স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকায় ভারতে বিক্রির চেষ্টাকালে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং থেকে এক গৃহবধূকে উদ্ধার এবং মানব পাচারের চেষ্টার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টায় জাফলংয়ের ‘প্রজাপতি রিসোর্ট’ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিরা ওই গৃহবধূকে জাফলং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে প্রজাপতি রিসোর্টে অবস্থান করিয়েছিল। ঐসময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই রাজিব রায় সঙ্গীয় পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়।

অভিযানে পাচারের শিকার হতে যাওয়া ভিকটিম মহিলাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ভিকটিমের স্বামী আশিকুর রহমান, একই জেলা ও উপজেলার নিশ্চাম গ্রামের মোঃ ফিরোজ মিয়ার ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম, পালগাঁও গ্রামের মোঃ মোনছের আলীর ছেলে কাওছার, গোবুদিয়া গ্রামের আঃ করিমের ছেলে মোঃ সাগর মিয়া।

সোমবার দিবাগত রাতে উদ্ধারকৃত ভিকটিম খুকি আক্তার মীম (২৪) বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে নামমাত্র পাচারকারী আটক হলেও পর্দার আড়ালে থেকে যায় মূলহোতারা। ফলে সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত বিপুল সংখ্যক মানুষ পাচার হচ্ছে।

বিশেষ করে জাফলং একটি অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে এই চক্রটি। পর্যটকের ছদ্মবেশে তারা এসব রিসোর্টে অবস্থান নেয় এবং সুযোগ বুঝে নারী, পুরুষ ও শিশুদের সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করে দেয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক মোড়ল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি এবং স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার চক্রের তৎপরতারোধে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

এসএ/সিলেট