ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে কানাইঘাটে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

post-title

ছবি সংগৃহীত

কানাইঘাট দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৪ দালাল সহ ৮ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে স্থানীয় লোকজন আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে থেকে লোকজন তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। তাৎক্ষণিক কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রোহিঙ্গা সহ ১২জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

জানা যায় কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত দালাল লক্ষীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র আছাদ আহমদ ও বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার পুত্র সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে সিলেট কদমতলী থেকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের পুত্র রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের পুত্র এলাছ উদ্দিনের অটোরিক্সা (সিএনজি) যোগে ঐ ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়।

আটককৃত ৮ রোহিঙ্গা সবাই মায়ানমারের বাসিন্দা। তারা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের সন্ধানে কানাইঘাটের ওই  দুই দালালের মাধ্যমে পালিয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিল। আটককৃত রোহিঙ্গারা হলেন এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮), আজিদা (১৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কানাইঘাটের দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদ তারা দীর্ঘদিন থেকে মানব পাচারের সাথে জড়িত। দনা এলাকা সহ কানাইঘাটে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে টাকার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সহ মানুষজনকে ভারতে পাচারসহ আসা-যাওয়ার কাজ করতো। দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদ, রোহিঙ্গা ৮ নারী-পুরুষকে ২টি অটোরিক্সা সিএনজি যোগে কানাইঘাটে নিয়ে আসে। এ চক্রের সাথে আটককৃত ২ সিএনজি চালক জড়িত। এছাড়াও এই চক্রের সাথে সীমান্ত এলাকার আরো কয়েকজন দালাল রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ৮ রোহিঙ্গা ও দালাল সহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দালাল সাদ্দাম ও আছাদের মাধ্যমে ৮ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের সন্ধানে অবৈধ ভাবে ভারতে যাবার চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান সাদ্দাম ও আছাদ রোহিঙ্গা সাথে করে সিলেট থেকে নিয়ে আসেন।

এ সময় তারা দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি গ্রামস্থ বটরবাজার নামক সুরমা নদীর ঘাটে নৌকা ভাড়া করে রাখেন। যাতে সিএনজি থেকে নেমে দ্রæত নৌকা যোগে দনা সীমান্তে চলে যেতে পারেন। কিন্তু সাদ্দাম ও আছাদ আটককৃত রোহিঙ্গদের নিয়ে আসতে কিছু দেরী হলে নৌকার মাঝি বার বার ঐ দুই দালালের মোবাইল ফোনে কথা বলে।

এতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা নৌকা ঘাটের কিছুটা অদুরে কুওরেরমাটি মাদ্রাসা নামক স্থানে ২ সিএনজিতে থাকা রোহিঙ্গা সহ দালালদের আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। এতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ সিএনজি চালক, দালাল ও ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।  


এসএ/সিলেট