ওসমানী বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা ৭ দিন ধরে নিখোঁজ

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। কর্মস্থলের আবাসিক এলাকা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এরই মধ্যে তার সন্ধান দেওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে টাকা হারিয়েছেন স্বজনরা।

নিখোঁজ ওই কর্মকর্তা হলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬)। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে গত ৭ জুলাই তিনি সিলেটে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। পরদিন ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও আর যোগ দেননি।

ঘটনার পরদিন ৯ জুলাই জেলিনের সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্জুন চৌধুরী।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে নিখোঁজ কর্মকর্তার সর্বশেষ অবস্থান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে শনাক্ত করা গেছে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তদন্তে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তাকে উদ্ধারে কাজ চলছে।

নিখোঁজ জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ছেলে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করলেও পরে তাকে সিলেটে বদলি করা হয়। সিলেটে যোগ দেওয়ার পর কাজের চাপের কথা তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের জানাতেন।

তিনি জানান, গত ৭ জুলাই ছেলে কর্মস্থলে ফিরে যায়। পরদিন সকালে ফোন করলে রুমমেটরা জানান, জেলিন তখন ঘুমিয়ে আছেন। পরে আবার যোগাযোগ করলে তারা জানান, তিনি কক্ষে নেই, হয়তো ছাদে গেছেন। এরপর থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের ঘটনায় উৎকণ্ঠার মধ্যেই নতুন ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবার। ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ছেলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও ছেলের সঙ্গে কথা বলাতে না পারায় তিনি আর টাকা দেননি।

তিনি আরও বলেন, পরে সিরাজগঞ্জ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে আরেক ব্যক্তি ফোন করে জেলিনের রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। পরে খোঁজ নিয়ে তারা নিশ্চিত হন, সেটিও ছিল প্রতারণার ফাঁদ।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গত ৮ জুলাই থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ লোকেশন বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে পাওয়া গেছে। স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।’

এসএ/সিলেট