বিএনপি নেতা ও চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট মহানগর বিএনপির নিন্দা

post-title

ছবি সংগৃহীত

নগরীর ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন ফাত্তাহ এবং তাঁর চাচাতো ভাই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান ফয়সালের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি।

গত রবিবার সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে নগরীর একটি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ক্যাডার বেলালের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন ফাত্তাহর বাসার সামনে এই হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলার শিকার হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান ফয়সাল। দুর্বৃত্তরা ডা. ফয়সালের ব্যক্তিগত গাড়িটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতিসাধন করে।

হামলায় গুরুতর আহত মোবারক হোসেন ফাত্তাহকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় দুটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং পায়ের দুই স্থানে জটিল অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নৃশংস এই হামলার খবর পেয়ে ঘটনার দিন রাতেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি আহত নেতার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

পরদিন সোমবার (৮ জুন) রাতে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও অন্যান্য দলীয় নেতৃবৃন্দও হাসপাতালে গিয়ে আহত মোবারক হোসেন ফাত্তাহকে দেখতে যান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

পৃথক প্রতিক্রিয়া ও এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডারদের দ্বারা একজন রাজনৈতিক নেতা ও সম্মানিত চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের কাপুরুষোচিত ও সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে হামলার মূল হোতা যুবলীগ ক্যাডার বেলালসহ জড়িত সকল দুর্বৃত্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সিলেটের রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ আহত নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।বিজ্ঞপ্তি

এসএ/সিলেট