সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক...
সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। এ বছর এ নিয়ে হাম উপসর্গে মৃত্যু হল সিলেট বিভাগের ১২...
ঘাতক সোহেল
কানাইঘাটে স্বামীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হয়েছেন ৩ সন্তানের জননী ফারহানা বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূ। এ হত্যাকান্ডটি ঘটেছে গত সোমবার গভীর রাতে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ প্রথম খন্ড গ্রামে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকালে স্বামীর বাড়ি থেকে ফারহানা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা করে।
জানা যায় নিহত ফারহানা বেগমের বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার চারীকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল আলীবাড়ি গ্রামে। তিনি ঐ গ্রামের মুহিবুর রহমানের মেয়ে। কয়েক বছর পূর্বে তাহার বিয়ে হয়, কানাইঘাটের বড়বন্দ প্রথম খন্ড গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র সোহেল আহমদ (৩৫) এর সাথে।
পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ফারহানা বেগমের বড় ভাই সেলিম উদ্দিন জানান, তার বোনের জামাই সোহেল আহমদ মাদকাসক্ত ও অত্যান্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। বিয়ের পর থেকে কারণে - অকারণে ফারহানাকে মারধর করতো।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বিচার হয়েছে। এতে তাহার বোনকে মারধর করবে না বলে কয়েক দফা মুচলেকা দেয় সোহেল আহমদ। কিন্তু সোহেলের স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি। স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ৩ মেয়ে সন্তানকে নিয়ে ফারহানা বেগম ৩দিন পূর্বে বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে ফারহানা তার মামার বাড়ি দরবস্ত ইউপির মানিকপাড়া মহাইল গ্রামে ভেড়াতে যায় গেলে সেখান থেকে সোমবার সন্ধ্যায় সোহেল আহমদ তার এক চাচাত ভাইয়ের সহযোগীতায় অটোরিক্সা সিএনজি যোগে ফারহানা ও সন্তানদের জোর করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে বলে তার ভাই সেলিম উদ্দিন জানান। বোনকে মামার বাড়ী থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি তারা জানতেন না। এরপর সোমবার গভীর রাতে ফারহানাকে নিজ বসতবাড়ীতে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বামী সোহেল আহমদ। ঘটনাস্থলে ফারহানা বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু হলে ঘাতক স্বামী সোহেল বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর হাতে ফারহানা বেগম নিহত হয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনা স্থলে গিয়েছেন। খুনি সোহেল আহমদকে গ্রেফতার করতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এসএ/সিলেট